পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক দিঘীর ইতিকথা, দিঘীর নাম কাজলদিঘী….এমরান আল আমিন

দিঘির নাম কাজলদিঘি।এটি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ কাজলদিঘি ইউনিয়নে অবস্থিত।এই পুকুর ১৭ একর জমির উপরে। কাজলদিঘি সম্পর্কে প্রচলিত আছে এক সুদীর্ঘ কিংবদন্তী। প্রাচীনকালে এই পুকুরের দক্ষিন পাড়ে বাস করতেন এক রাজা।রাজার সাতজন রাণী ছিলেন,কিন্ত রাজা নি:সন্তান ছিলেন।অনেক চেষ্টা করেও রাজা সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি। একদিন হঠাৎ বিমর্ষ রাজার দরবারে এসে উপস্থিত হলেন এক সৌম্যদর্শন সন্ন্যাষী। তিনি ছোট রাণীকে খাওয়ার জন্য তিনটি ফল দিলেন এবং বললেন,এই ফল খেলে রাণী সন্যানের মা হবেন।কিন্ত অন্য রাণীদের ষড়যন্ত্রের কারনে ছোট রাণী ফল খেতে পারলেন না।বাধ্য হয়ে তিনি ফলের পরিত্যক্ত খোসাগুলোই ভক্ষন করলেন ভক্তিসহকারে। ছয় রাণীর সন্তান হোল না,কিন্ত ঈশ্বরএর কৃপায় একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দিলেন ছোট রাণী। এই সংবাদে রাজ্যময় আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। রাজা তার মেয়ের নাম রাখলেন কাজলিনী।আনন্দের মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছিল দিনগুলো। কিন্ত হঠাৎ করেই রাজ্যে দেখাদিল অনাবৃষ্টি।অনাবৃষ্টি থেকে দূর্ভিক্ষ।দেখ দিল পানির তীব্র অভাব। রাজা সন্ন্যাষীর পরামর্শে প্রজাদের জন্য খনন করলেন এক বিরাট দিঘি। কিন্ত একি!এমন সুগভীর দিঘি পানিশুন্য। রাজা আবার পরামর্শ চাইলেন সন্ন্যাসীর কাছে।সন্ন্যাসী বিমর্ষ মুখে জানালেন, পুজা দিয়ে জলদেবতাকে সন্তুষ্ট করতে হবে। আর সে দায়িত্ব পালন করতে হবে বালিকা রাজকন্যা কাজলিনীকে। অজানা আশংকায় কেপে উঠলো রাজার পিতৃ হ্রদয়। রাজার কোন উপায় নেই কারন প্রজাকুল তাকিয়ে রয়েছে রাজার দিকেই। প্রজাদের দিকে তাকিয়ে রাজা সিদ্ধান্ত নিলেন,একদিন অসংখ্য প্রজার উপস্থিতিতে রাজক্ণ্যা কাজলিনী স্বর্ণের থালায় পুজার সামগ্রী নিয়ে ধীরে ধীরে নেমে গেল পুকুরের মাঝখানে। অর্ঘ্য প্রদান করল জলদেবতার উদ্দেশ্যে। সঙে সঙে পুকুরের চারিদিক থেকে কল্ কল্ শব্দে উঠে এলে জলধারা। ভরে গেল গোটা পুকুর। ডুবিয়ে দিল রাজক্ণ্যা কাজলিনিকেও। শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করলো এই হ্রদয়বিদারক,বেদনাবিধুর দৃশ্য।হাহাকার ও আর্তনাদে ভরে উঠলো গোটা রাজ্য। কান্নায় ভাংগে পড়লেন রাজা ও রাণী। অত:পর রাজা কন্যার স্ম্রতি রক্ষার্থে পুকুরের নাম রাখলেন কাজলদিঘি। এখনো কোন পূর্ণিমা রাতএ শোনা যায় নারী কন্ঠের মৃদু কান্নার ধ্বনি।মাঝে মাঝে পুকুরের পানিতে ভেসে উঠে একটি ঝকঝকে রুপোর নৌকো। আর এ দিঘির টলটলে জল দেখলে প্রান জুড়িয়ে যায়, এপার থেকে ওপারে তাকালে। জনশ্রুতি আছে যে, কবি যতিন্দ্র মোহন বাগচী তার বিখ্যাত কাজলাদিদি কবিতাটি এখানেই রচনা করেছেন।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ১১বছর পায়ে লোহার শিকলে বাধা বাসন্তি রাণীর জীবন

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ ১১ বছর ধরে পায়ে লোহার শিকলে বাধা জীবন কাটছে বাসন্তি রাণী। রোগাক্রান্ত দেহে বাসন্তি শুধু ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে দেখে তার চারপাশ। তবে পায়ে মোটা লোহার শিকলে বাধা থাকায় বিশেষ কাঠের বেঞ্চই তার একমাত্র আশ্রয়স্থল। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীরহাট ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম। এ গ্রামে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক শিশু। বাবা-মা অনেক আদর করে নাম রাখেন বাসন্তী রাণী। বাবা হরিপদ রায় পেশায় কামার হলেও স্বপ্ন দেখতেন মেয়েকে উচ্চ শিক্ষত করবেন। মেয়ে স্কুলে বেশ ভালই পড়াশোনা করছিল। ৮ম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার আচরণ পাল্টাতে থাকে। কখনও প্রলাপ বকতো। গ্রামে যার-তার বাড়িতে গিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে আসতো। এনিয়ে বাবা হরিপদের কাছে প্রায়ই নালিশ করতো স্থানীয়রা। অনেকে মারধরও করতো। অনেককে দিতে হতো জরিমানা। গরিব বাবা হরিপদ মেয়েকে সুস্থ করার জন্য স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা করে তাকে সুস্থ করতে না পেরে বাসন্তির পায়ে লোহার শিকল পড়িয়ে গাছে বেধে রাখেন। বাসন্তির ভাবী পবিত্রা রাণী খাবারসহ তার প্রয়োজনীয় সহায়তা করলেও শিকলে বাধা জীবন থেকে মুক্তি মিলেনি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,বাসন্তি কে বাহিরে আম গাছের সাথে পায়ে শিকল দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন উন্নত চিকিৎসা করলে বাসন্তি ফিরে পেতে পারেন তার স্বাভাবিক জীবন। সেও বাঁচতে পারেন অন্যান্য মানুষের মতো। পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাসন্তীর চিকিৎসা করলে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। এ বিষয়ে আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে। বাবা হরিপদ রায়, ভাই রতন কুমার ও ভাবি পবিত্রা রানী ও প্রতিবেশী মনোয়ারা জানান, অন্যের বাড়ি যাওয়ায় অনেকে মারধর করে, কেউ অভিযোগ করে, কখনও দিতে হতো জরিমানা ,এমন সমস্যার কারণে আমরা তাকে বেধে রেখেছি। তারা জানান সরকার ও সমাজের লোকজনের কাছে তার মেয়ের চিকিৎসার আবেদন জানিয়েছেন। সঠিকভাবে চিকিৎসা করা হলে বাসন্তী রানী আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে

মাদারীপুরে সৌখিন শিল্পী জাকির হোসেন তালুকদার প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে নৌকাসেতুর মডেল তৈরি করেছে

জাহিদ হাসান, মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি : তিন বছর আগে পদ্মাসেতু ও এক বছর আগে লাল সবুজের পার্কের মডেল তৈরি করে জেলাবাসীর ভালবাসা ও উৎসাহ কুড়িয়েছে স্বশিক্ষিত বেকার যুবক জাকির হোসেন তালুকদার। এই সৌখিন শিল্পী এবার প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়ার জন্য গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য নৌকা দিয়ে এই ডিজিটাল যুগে তৈরি করেছে নৌকাসেতুর মডেল। জাকির এ উপহারটি জাকির জাতির … Read moreমাদারীপুরে সৌখিন শিল্পী জাকির হোসেন তালুকদার প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে নৌকাসেতুর মডেল তৈরি করেছে

উত্তরবঙ্গের অবহেলিত ঠাকুরগা জেলার স্মৃতিচারণের নামকরণ

মজিবর রহমান শেখ ঠাকুরগা জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলা, ঢাকা থেকে দূরত্ব প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার। এটি ঠাকুরগাঁও জেলা । জেলাটিতে রয়েছে ৩ টি পৌরসভা, ৬ টি থানা, ৫ টি উপজেলা, ৫১ টি ইউনিয়ন ও ৫৭০ টি গ্রাম। ঠাকুরগাও নামটি  এসেছে প্রাচীন জমিদার নারায়ন ঠাকুর এবং তার ভাই জোতিষ ঠাকুরের নামানুসারে। ঠাকুরগাওয়ের পূর্ব্ নাম নিশ্চিন্তপুর। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে টাংগন নদী। ঠাকুরগাও একটি ছোট্ট শহর। কিন্তু এর  ভেতরে ও আশেপাশে অনেক গুরুত্বপুর্ণ স্থান রয়েছে। বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় আমগাছ আমাদের জেলার বালিয়াডাংগী থানায় অবস্থিত। এছাড়া আরো রয়েছে রাণীশৈংকেল রাজবাড়ি ও রানীসাগর, হরিণমাড়ির পুরোনো শিবমন্দির, মোঘল আমলে নির্মিত সনগাঁও জামে মসজিদ, ফতেপুর সিক্রি, বলাকা উদ্যান, পীরগঞ্জের ফানসিটি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত পুরোনো বিমান বন্দর ( শ্রীঘই চালু হবে আশা করি) ইত্যাদি। আরো অনেক দর্শণীয় স্থান। ভারতীয় সীমান্তে ঘেষা নাগর নদীর তীরে গড়ে ওঠেছে দৃষ্টিনন্দন চা বাগান রনবাগ টি স্টেট যেটা বর্তমানে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বহুল জনপ্রিয়। শিক্ষার দিক দিয়েও পিছিয়ে নেই ঠাকুরগাঁও।  আমাদের  জেলার অনেক কৃতিসন্তান দেশের বিভিন্ন যায়গায় কৃতিত্বের সাথে অনেক অবদান ক্রমাগতভাবে রেখে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম নিরক্ষর মুক্ত গ্রাম কচুবাড়ির কিষ্টপুর আমাদের জেলায় অবস্থিত। এক সময় আমাদের এই শিক্ষা আন্দোলনের নাম ছিল “সুরভিত ঠাকুরগাও”। কৃষকদের অধিকার আদায়ের জন্য গড়ে ওঠা তেভাগা  কেন্দ্রীয় আন্দোলনের নেতা হেলে কেতু বাবু , সাওতাল বিদ্রোহ বেশ শক্ত ভাবে গড়ে ওঠেছিল। আমাদের জেলার নৃতাত্ত্বিক গঠনপ্রণালী অন্যান্য জেলা থেকে আলাদা। আমাদের জেলার ভাষা উত্তর বঙ্গের অন্যান্য জেলা থেকে আমাদের জেলার ভাষা অনেকাংশে ভিন্ন। তবে আমাদের জেলার ভাষার সাথে চাপাইনবাবগঞ্জের ভাষার কিছু মিল রয়েছে। এখানে বসবাস করে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষ যেমন: পলিয়া, মুন্ডা, সাওতাল, রাজবংশী, মালদইহা, কোচ ইত্যাদি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে রয়েছে ধামের গান, সত্যপীরের গান, কবি গান, পালাগান , ওয়াজ মাহফিল ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়। তবে কালের বির্বতনে কিছু হারিয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলার মধ্যে রয়েছে মার্বেল খেলা, হা-ডু-ডু, বউচি, চৌপাতি, গোল্লাছুট, চোরপুলিশ, ফুটবল এবং কালের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। আমাদের জেলার অথর্নীতির সীমানা ডিঙ্গিয়ে কিছু শিল্পপতি সমগ্র দেশে বিচরণ করছে। এদের মধ্যে রাজ্জাক গ্রুপ, ইজাব গ্রুপ,  ইএসডিও প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। কিছু বরেণ্য ব্যক্তির জন্ম হয়েছে আমাদের জেলায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলনে যেই ছাত্র সংগঠনের সবচেয়ে অবদান সবচেয়ে বেশি । বর্তমানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্মস্থান আমাদের জেলায়.      ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দবিরুল ইসলাম। আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমান সদর আসনের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন এমপি সাহেবেরও বাড়ি আমাদের জেলায়। শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বহুল আলোচিত ছাত্রনেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বাড়ীও আমাদের ঠাকুরগাঁও জেলায়। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার অঙ্গনে যিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অধ্যাপক শিশির ভট্ট্যাচার্য তার বাড়িও ঠাকুরগাও। বিশিষ্ট নাট্যভিনেতা লিটু অানামের বাড়ি ও আমাদের জেলায়। সবাই বলে আমাদের জেলার মানুষ সহজ সরল এবং সহজেই প্রতারিত হয়। তাইতো জনৈক ব্যক্তি বলেছেন ”আমরা সরল সমাজের বাসিন্দা”। তাইতো আমি আমার জেলাকে ভালোবাসি ! আসুন দল-মতকে উর্ধ্বে রেখে নিজেকে নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধতা রেখে ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়ণে সম্মিলিতভাবে কাজ করি।

বীরগঞ্জের আলোকিত মুখ অধ্যাপক আবু সামা মিঞা

মো.নজরুল ইসলাম খান বুলু, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আলোকিত মুখ সহকারি অধ্যাপক আবু সামা মিঞা আত্ম মানবতার সেবায় একটি নিবেদিত প্রাণ। তিনি আজ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গরীব মেধাবী অসহায় ছাত্রী মোছা.কাজল রেখার শিক্ষাজীবনের যাবতীয় ব্যয় ভার বহনের দায়িত্বভার গ্রহন করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন । তিনি শুধু আত্মমানবার সেবায় … Read moreবীরগঞ্জের আলোকিত মুখ অধ্যাপক আবু সামা মিঞা

ঠাকুরগাঁও জেলায় পাপোশ কারখানার পাপোশ তৈরি করে সোমা আক্তার লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছে

মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:এখন ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল, হরিপুর, পীরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠেছে পাপোশ তৈরীর শতাধিক কারখানা।এই পাপোশ কারখানা গুলিতে এখন গরিব পুরুষ-মহিলা ও ছাত্র-ছাত্রীরা কাজ করে দৈনিক প্রায় ২৫০-৫০০টাকা আয় করতে পারেন।এতে এখন যেন খিলখিল করে হেঁসে উঠতেছে ঠাকুরগাঁওয়ের গরিব মানুষেরা। রাণীশংকৈলের ধর্মগড় এলাকার এক পাপোশ তৈরীর কারখানায় গিয়ে … Read moreঠাকুরগাঁও জেলায় পাপোশ কারখানার পাপোশ তৈরি করে সোমা আক্তার লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছে

ইতিহাসের আলোকে পঞ্চগড় জেলার ‘‘বোদা’’ উপজেলা

সম্পাদকীয় : বিগত চারশত বছরে নানান চরাইউৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে আজকের বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে বোদা পরগণার অবস্থান সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে মীরজুমলার অঞ্চলে আগমনের নানান চিহ্ন আজো বলবৎ মোগলিকেল্লা, নয়নীবুরুজ আজও মীরজুমলার আগমনের বার্তা বহন করে বিগত আড়াইশত বছরে বিদ্রোহ, বিপ্লব আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল পরগণা কোন কোন বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পরে উত্তাপ ছড়িয়েছিল পরগণার বাইরেও আর অঞ্চলের নামকরণ হয়েছে অনেক আগেই ১৭৫৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত গোটা ভারতবর্ষ ব্যাপী ব্যাপক কোন আন্দোলন না হলেও কৃষক বিদ্রোহ, সাওতাল বিদ্রোহ, তিতুমীরের বিদ্রোহ, হাজী শরীয়তুল্ল্যাহর আন্দোলন, দুদু মিয়ার আন্দোলন, সিপাহী বিদ্রোহ সংগঠিত হয় আর পরগণায় কৃষক বিদ্রোহ, ফকিরসন্ন্যাস বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন ব্যাপকতা ছড়ায়, যার উত্তাপ পরগণার বাইরেও পড়ে
জেলার জনপ্রবাহের মধ্যে রয়েছেহিন্দু মুসলমান প্রধান ধারা, এছাড়াও রাজবংশী, কোচ, পলিয়া, সাঁওতাল, ওঁরাও, হাড়ি, ভূইমাল, কামারকুমার, বেহারা, কাহার, সুনরী, বয়াতী, পাঠান, শেখ প্রভৃতি। এই বিচিত্র জনধারার মিশ্র রুপায়নেই গড়ে উঠেছে বোদা পরগণার নৃতাত্ত্বিক ভিত্তি।বোডোভাষা গোষ্ঠী বা মঙ্গোলীয় নর গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কোচ, রাজবংশী, পলিয়া ইত্যাদি জাতির একটি প্রধান ধারা পরগণায় পরিলক্ষিত হয়। এদের বৈশিষ্ট্য নিম্নরুপ : নাক মধ্যমাকৃতি থেকে চ্যাপ্টা, মাথার আকৃতি সাধারনত গোল, অক্ষিপট সম্মুখীন, উন্নত গন্ডাস্থি, কেশবিহীন দেহ মুখমন্ডল, সোজা চুল, বিরল দাড়িগোঁফ, পায়ের রং পীতাভ অথবা বাদামী পীতাভ। এই জনগোষ্ঠী অতি প্রাচীন কালে দক্ষিন পশ্চিম চীন হতে ক্রমশ বঙ্গদেশ, মালয় উপদ্বীপ এবং পূর্ব দক্ষিন সমুদ্র উপকূলীয় দেশ এবং দ্বীপগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। পথে উত্তর আসামে এবং ব্রক্ষ্মপুত্র উপত্যকায় মিরি, নাগা, বোডো বা মেচ সম্প্রদায় ভূক্ত কোচ, পলিয়া, রাজবংশী প্রভৃতি লোকের মধ্যে একটি ধারা প্রবাহ ঐতিহাসিক কালে বাংলাদেশে এসে ঢুকে পড়ে। রংপুর, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি প্রভৃতি অঞ্চলে এভাবেই খানিকটা মঙ্গোলীয় প্রভাব সমাজের নিম্নস্তরের মানুষের রক্তে আত্মপ্রকাশ করেছে। বোদা পরগণার কোচ, পলিয়া, রাজবংশী জনগোষ্ঠী উল্লিখিত জনপ্রবাহের উত্তরসূরী।
বোদা পরগণার ইতিহাস অতি প্রাচীন। এর নাম করনেও অনেক মতভেদ রয়েছে মনে করা হয়, অতি প্রাচীনকালে করতোয়া নদী অনেক খর¯্রােতা বৃহৎ আকারে অত্র অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহমান ছিল। কথিত আছে সতী বা পার্বতী দেহ ত্যাগ করলে তার দেহের বিভিন্ন অংশ অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের একান্নটি স্থানে পতিত হয়। দেহের অংশগুলি যে যে স্থানে পতিত হয় সে স্থানগুলি পীঠস্থান হিসাবে স্বীকৃত হয়। সতীর বাম পায়ের গোড়ালী বোদা এলাকার করতোয়া নদীতটে পতিত হয়। সতীদেহ যেহেতু গহীন অরণ্যে পড়েছে তাই সুবিধাজনক জায়গায় তার একটু পার্শ্বেই একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এই স্থানটি বদেশ্বরী নামে পরিচিত। পূর্ণ্যস্থানে তদানীন্তন কোচ রাজা প্রাণ নারায়ন বদ্বেশ্বরী মন্দির নির্মাণ করেন। কালক্রমে বদেশ্বরী মন্দিরের নামানুসারে এলাকার নাম হয় বোদা।
এছাড়া জানা যায় যে, মোঘল শাসন আমলে শাসনকার্য পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাকে কতগুলো পরগণা বা চাকলায় বিভক্ত করা হয়। কুচবিহার মহারাজার রাজত্ব ছিল উত্তরে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জে, পূর্বে পাটগ্রাম, দক্ষিনে বোদা দেবীগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃতি। চাকলার অভ্যন্তরের জমিদারির নামকরণ করা হয় চাকলাজাত এস্টেট। কুচবিহার মহারাজার চাকলাজাত এস্টেটের হেড অফিস ছিল বোদায়। এখান থেকেই খাজনা আদায়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। খাজনা আদায়ের প্রধান কর্মকর্তাকে বলা হতো নায়েব। বোদা চাকলার কর্মরত নায়েবের নাম ছিল বৈদ্যনাথ। বৈদ্যনাথ নায়েব মহাশয় সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি পালকিতে চলাফেরা করতেন। জনশ্রুতি আছে নায়েব বৈদ্যনাথকে সংক্ষেপে বৈদ্য বলে ডাকা হতো। কাল ক্রমে বৈদ্য শব্দ থেকে বোদা নামের উৎপত্তি বলে অনেকে মনে করেন। ডঃ বুকানন হেমিল্টনের বিবরণী থেকে জানা যায় যে, এই অঞ্চল খুবই উন্নত ছিল। বন্দর হিসাবে অঞ্চল খ্যাত ছিল। জনশ্রুতি আছে যে, বন্দর থেকে বোদা নামের উৎপত্তি। আবার সাম্প্রতিক কালে আলোচনা উঠেছে যে, “বোডোভাষাগোষ্ঠী থেকেই বোদা নামের উৎপত্তি। কারন বর্তমান পঞ্চগড় শহরের পার্শ্বেই একটি পাড়ার নামবোদা পাড়া
ছিয়াত্তরের মন্বত্ত্বরের (১৭৭০খ্রী🙂ফলে অঞ্চলের প্রায় অর্ধেক লোক মারা যায়। লোকবলের অভাবে সে সময় কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দূর্যোগের মধ্যে সরকারীভাবে ভুমি রাজস্বের পরিমান বৃদ্ধি করা হয়। জমিদার দেবীসিংহ বাড়তি রাজস্ব আদায়ের জন্য কৃষকদের উপর বল প্রয়োগ শুরু করেন। প্রতিবাদে কৃষকরা জেলা কালেক্টরের স্মরনাপন্ন হলে তিনি নির্বিকার ছিলেন। পরিপ্রেক্ষিতে কৃষকরা ১৭৮৩ খ্রিঃ সংঘবদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ ঘোষনা করে। কৃষকদের আক্রমনের ফলে দেবীসিংহের গোমস্তারা পলায়ন করে। এসময় কয়েকজন কর্মচারী আহতনিহত হন। তারা ক্রমে ব্রিটিশ সরকারকে অমান্য করতে আরম্ভ করে। সরকার অঞ্চলের বিদ্রোহ দমন করতে শেষমেষ সেনাবাহিনী মোতায়েন করেন। অঞ্চলে সংগ্রাম করতে গিয়ে বহু কৃষক আহতনিহত হন এবং অঞ্চলের কৃষকদের চাপেই সরকার দেবীসিংহকে আটক করে এবং ভূমি রাজস্ব হ্রাস করা হয়। অত্র অঞ্চলে কোন প্রশাসনিক ইউনিট না থাকায় এবং এলাকাটি ঘনঅরণ্য বেষ্টিত হওয়ার কারনে বৃটিশ সরকার কৃষক বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হয় এবং এলাকায় কোন নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। কৃষক বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হওয়ায় এবং এলাকায় বৃট্রিশ সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার একটি প্রশাসনিক ইউনিট সৃষ্টি করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাই ১৭৯৭ সালে বোদা থানার গোড়াপত্তন শুরু হয়।
১৭৭০১৮৬৮ পর্যন্ত বোদা পরগনা রংপুর জেলার অধীনে ছিল। ১৮৬৯১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বোদা ছিল জলপাইগুড়ি জেলার অধীন। কুচবিহার প্রশাসন, বোদা থানা প্রদত্ত সম্পত্তি রেট ফি হিসেবে বোদা থানাকে দান করে ১লা সেপ্টেম্বর ১৮৮৩ তারিখে একটি আদেশ জারি করেন। আদেশটি ০৯/০১/১৯৮৪ তারিখে কলকাতা প্রথম খন্ডের ১৭৭ নং পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়।
জলপাইগুড়ি জেলার অধীন তিনটি থানা ছিল () জলপাইগুড়ি সদর ()রাজগঞ্জ() বোদা। বোদা ছিল জলপাইগুড়ি জেলার বৃহত্তম থানা। বোদা থানার অধীন দুইটি পুলিশ আউট পোষ্ট ছিল। একটি পঞ্চগড়ের উত্তরে জগদল এবং অপরটি করতোয়া নদীর পূর্ব পাড়ে দেবীগঞ্জ। কালক্রমে দেবীগঞ্জ এবং জগদল পূর্ণাঙ্গ থানায় রুপান্তরিত হয়। জগদল হতে থানাটি পরবর্তীকালে পঞ্চগড় ( বর্তমানস্থানে) স্থানান্তর করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর দিনাজপুর জেলা, ঠাকুরগাঁও মহকমুার নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে অঞ্চলটি পঞ্চগড় জেলার অধীন। বর্তমানে এই অঞ্চলের সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগন মুসলমান। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর অঞ্চলে যত হিন্দু জনগোষ্ঠী ছিল ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। পরগণায় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বাস এখনও আছে। আর সাঁওতাল জনগোষ্ঠী তাদের আদি কৃষ্টিকে স্বযতেœ লালন করে আসছে। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সংঘটিত সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়ে গেলে বিপর্যস্ত বহু সিপাহী এপরগণায় পালিয়ে আসে। সমস্ত সিপাহী তেঁতুলিয়া সংলগ্ন ঘন জঙ্গলসহ নেপালভূটান পর্যন্ত অঞ্চলে পলায়ন করেন এবং আত্মগোপন করে থাকেন।ফাঁসিদেওয়ানামক স্থানে সিপাহীদের ফাসিঁ দেওয়া হয়। ফাসিঁদেওয়া, সিপাহীপাড়া প্রভৃতি গ্রাম সিপাহী বিপ্লবের স্মৃতিবহ। এই জনপদে ফকির মজনু শাহ, ভবানী পাঠক প্রভৃতি ফকির সন্ন্যাসী নেতার নেতৃত্বে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন সংঘটিত হয়। সন্ন্যাসী কাটা, সন্ন্যাসী পাড়া, দেবীগঞ্জ,দেবীডোবা প্রভৃতি অঞ্চলের নামকরণ সেই স্মৃতিকে ধারন করেই করা হয়েছে। সন্ন্যাসী কাটায় ধৃত সন্ন্যাসীদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। ফকির সন্ন্যাসী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী অনেক ফকির সন্ন্যাসীও অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে। সে কারনে অঞ্চলের অনেক গুলো পাড়ার নাম ফকির পাড়া। এছাড়া ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পর জলপাইগুড়ি জেলা থেকে এবং ১৯৫৩ সাল থেকে পূর্ববঙ্গের নোয়াখালী, পাবনা, ঢাকা, ময়মনসিংহের বিপুল সংখ্যক মানুষ পঞ্চগড় জেলায় এসে স্থায়ীভাবে থেকে যান। উল্লিখিত জনপ্রবাহ ধীরে ধীরে স্থানীয় জনধারার সঙ্গে নিজেদের মিশিয়ে ফেলেন। বহিরাগত এই জনপ্রবাহের মধ্যে ছিল অ্যালপাইন, মঙ্গোলীয়,দ্রাবিড়, আদিঅস্ট্রেলীয় প্রভৃতি মিশ্র উপাদান। পঞ্চগড় জেলার নৃতাত্বিক বৈশিষ্ট্য বিনির্মানে এদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
ঃরাজনৈতিক
পলাশীর যুদ্ধের পূর্বে অঞ্চলের মানুষ রাজনৈতিক ভাবে একেবারেই সচেতন ছিল না। শিক্ষাদীক্ষায়ও গোটা ভারত বর্ষের মধ্যে ছিল পিছিয়ে পলাশীর যুদ্ধের পরে অঞ্চলের জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক জীবনে পরিবর্তন শুরু হয়। দেশ জাতি, জাতীয়তাবাদ প্রভৃতি সর্ম্পকে জনগণ সচেতন ছিলনা। ধর্ম বিশ্বাস কিংবা ধর্ম ভিত্তিক আচারঅনুষ্ঠান ছিল তাদের
সামাজিক রাজনৈতিক চিন্তাধারার ভিত্তি। পীর, ফকির, সন্ন্যাসী, যোগিরা ছিলেন জনগনের আধ্যতিœ নেতা। লাখেরাজ, দান ধর্মীয় জীবনের অবাধ স্বাধীনতা নিয়ে তারা ব্যস্ত থাকতেন। এই অঞ্চলের জনগন এবং নেতাদের দেশী বিদেশী সরকার নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা ছিলনা। কিন্তু ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই অঞ্চলের জন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শাসক গোষ্ঠী হস্তক্ষেপ করতে চাইত। দ্বৈত শাসন এবং ছিয়াত্তরের মন্বন্তÍ এর কারনে অঞ্চলে অরাজকতা শুরু হয়। অঞ্চলের মানুষ সমকালীন রাজনৈতিক পরিবেশে নির্লিপ্ত থাকতে পারেনি। তারা বুঝতে পারে উদ্ভুত পরিস্থিতির মুল হোতা ইংরেজ। এলাকার মানুষ সরকারী নীতির প্রতিরোধ করতে সশস্ত্র সংগ্রাম করতে এগিয়ে আসে। গোটা দেশের মতো অঞ্চলেও ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বিচ্ছিন্ন ভাবে প্রতিরোধ অন্দোলনে অগ্রসর হয়। বোদা শহরকে মধ্যযুগে অভিহিত করা হতো নগরকুমারী নামে। সুতরাং এখানে নগর শব্দটি ব্যবহার হয়েছে বন্দর অর্থে সম্ভবত কোন সৌখিন সংস্কৃতি প্রিয় ব্যক্তি কুমারী মেয়ের সঙ্গে তুলনা করে এর নাম করণ করেছিলেন। বস্তুত এই নগরটি ছিল অতি চমৎকার। ডা. বুকানন হেমিল্টন ১৮০৯ খ্রিষ্টাদ্বে এই অঞ্চল পরিদর্শন করে জানিয়েছিলেন, বোদায় কুমারী কোর্ট (নগরকুমারী) নামক একটি ছোট শহর বিদ্যমান ছিল। সেখানে বসবাস করতেন দেশীয় কর্মকর্তাগণ পুলিশ অফিসারগণ। এখানকার বাড়ীঘর গুলো উন্নতমানের। কোচ বিহারের মহারাজার কর্মচারীগণও এই নগরে বসবাস করতেন। ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে নগরকুমারীতে বাড়ী ঘরের সংখ্যা ছিল ২০০ দুই (শত) টি। নগরকুমারী নিকর্টবর্তী ভাসাই নগর গ্রামে এককালে বসবাস করতেন বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ সম্ভবত এই গ্রামে গড়ে উঠেছিল উপ শহর অঞ্চলটি পাথরাজ নদীর বন্যায় প্লাবিত হয়ে ভাসাই নগর নামধারন করেছিল বলে অনুমিত হয়।
১৭৭৭ সনে জয়সিংহকে বোদা পরগণার তিন আনার চৌধুরী নিযুক্ত করা হয়। ১৭৭৭৭৮ খ্রিঃ রাজার চাকলাজাত এই অঞ্চলের জমিদারীর দায়িত্ব অর্পিত হয় নাজির খগেন্দ্র নারায়নের নামে তার দেওয়ান রাম চন্দ্র এবং তার পুত্র শ্যাম চন্দ্রের উপর। কিন্তু তারা আদায়কৃত রাজস্বের প্রায় সমস্তই আত্মসাৎ করতেন। সামান্য কিছু প্রদান করেতেন নাজিরকে। পক্ষান্তরে রাজাকে কিছুই দেওয়া হতো না। সময় ফকির চন্দা হরি নারায়ন ছিলেন বোদা চাকলার চৌধুরী, তারা নিজেরাই ভিন্ন ভিন্ন পরগনার জমিদার হওয়ার প্রত্যাশায়স্বত্বেরদাবীতুলে রংপুরের কালেকটরের নিকট মহারাজা নাজিরের নামে মামলা দায়ের করে। সেই মামলার রায়ে কালেকটর মি. পার্লিং সিন্ধান্ত দিয়েছিলেন যে, চৌধুরী গণ এবং নাজির ‘‘চাকলা বোদার’’ কর্মচারী মাত্র। কোচ বিহারের মহারাজাই চাকলা বোদার প্রকৃত অধিকারী ১৭৭৮ সনে পরিচালিত হয় এই মামলা বোদা চাকলার উপর মোঘল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার (১৭১১ খ্রিঃ) ৫৪ বছর পর ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানী লাভ করেন দেওয়ানী। ১৭৭০ খ্রিঃ মি. গ্রোস নিযুক্ত হন রংপুর অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের সুপারভাইজার কিছু দিনের মধ্যে কোম্পানী রংপুর কে জেলা হিসাবে গড়ে তুলেন, যার মধ্যে অর্šÍভূক্ত বোদা পরগনাটি মি. গ্রোসের অব্যবহিত পূর্বে বোদা চাকলার রাজস্ব সংগ্রাহক ছিলেন মির্জা হোসেন রাজা এবং মদন গোপাল। মি. গ্রোসের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত নাজির ছিলেন বোদা চাকলার সর্বময় কর্তা তিনি কোম্পানীর নিকট আজ্ঞাবহ ছিলেন না। মি. গ্রোস কালেকটর হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বোদা চাকলার কোন জমিদার কোম্পানী কর্তৃক ধার্যকৃত রাজস্ব প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে তার জমিদারী অন্য কোন ঠিকা বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়। কোম্পানীর শর্তযুক্ত জমিদারী কোচ বিহার মহারাজারা মানতে চাইতনা। তাই মহারাজার সাথে কোম্পানীর বিরোধ শুরু হয়। কোচবিহার মহারাজা উপেন্দ্র নারায়ন ১৭৩৭৩৮ খ্রিঃ ভুটানের রাজার সহায়তায় মোঘলদের পরাজিত করে নিজ সিংহাসন উদ্ধার করেন। ভুটান রাজের সাহায্য গ্রহণের ফলে বোদা পরগনায় ভুিটয়াদের প্রভাব প্রতিপত্তি বহুগুণ বেড়ে যায়। অতপর এই অঞ্চলে শুরু হয় নানা রুপ অশান্তি পরগনারনয়নীবুরুজতাদের স্মৃতি বিজরিত স্থান।
ভুটানিরা এতই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল যে, কোচ বিহারের একজন রাজাকে আটকে রেখেছিল ভুটানে। ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানী একাধিক বার ভুটান সীমান্তে সৈন্য প্রেরণ করে কিন্তু তারা ফিরে আসে পরাজিত হয়ে। তাদের সংঙ্গে কোম্পানী স্বাক্ষর করেন একাধিক সন্ধি। ভুটানিদের জন্যই কোম্পানী পরগনায় সেনাবাহিনী নামান। সর্বশেষ ১৮৬৪ সালে কোম্পানী ভুটান দুয়ার বা সীমান্ত অধিকারের ঘোষণা দেন। ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি প্রহণ পূর্বক শুরু করে সর্বাত্বক যুদ্ধ। এবারে চুড়ান্ত ভাবে বিজয়ী হয় ব্রিটিশ বাহিনী
ব্রিটিশভুটান যুুদ্ধে কোম্পানীকে সহায়তা করেন বোদা পরগনার চন্দনবাড়ী গ্রামের তরিকুল্লাহ্। কোম্পানী তাকে পুরস্কার হিসাবে প্রদান করেন বহু ভুসম্পদ এবং বোদা চাকলার দায়িত্বপূর্ণ ম্যাজিষ্ট্রেটের পদ। তরিকুল্লাহ্র নামের প্রথম বর্ণ হওয়ায় পরবর্তী কালে তার পরিবার পরিচিতি লাভ করে টি ফ্যামিলি হিসেবে। এই পরিবারের বিখ্যাত কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন খান বাহাদুর তসকিমউদ্দীন আহম্মদ এবং কলকাতা মোহামেডান স্পোটির্ং ক্লাবের বিখ্যাত গোলরক্ষক তছলিমউদ্দীন আহম্মদ। টি ফ্যামিলির প্রথম পুরুষ মুন্সি তরিকুল্লাহ বৃটিশ বাহিনীর মেজর ছিলেন। পরবর্তী কালে তিনি বোদা বেঞ্চ কোর্টের প্রথম বিচারক ছিলেন। বিচার কার্য পরিচালনার জন্য সেই সময় অবিভক্ত বাংলার অনেক নামি দামী উকিল মোক্তার বোদায় আগমন করেন। তাদের কেউ কেউ অঞ্চলে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন।

জীবন যাত্রা
এই অঞ্চলের মানুষের বসতির কথা জানা যায় সেই বৈদিকযুগ হতেই। প্রকৃতির যে একটা নিয়ম পরিবর্তন চলছে সেটা এই অঞ্চলের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। এই অঞ্চলের যে কোন বয়স্ক মানুষের সাথে কথা বললেই জানা যায় যে, এখন যেখানে তার বাড়ী আবাদী জমি, তাঁর শৈশব কৈশরে তিনি সেখানে দেখেছেন, বাঘ, হরিণ আর শিয়ালের বসবাসের জন্য জঙ্গল। এই অঞ্চলের মানুষের ঘরবাড়ী ছিল প্রাচীন কাল হতেই কাঠ বাঁশের খুটির উপরে ছন বা খড়ের ঘর, বাড়ীর পার্শ্বে থাকত বাঁশঝাড়, বিত্তবানদের বাড়ীর সাথে পুকুর, নিম্নবিত্তদের ডোবা, সেখানে মাছের চাষ করত। বংশানুক্রমিক ভাবে মানুষ দাদা বাবার ভিটা মাটি ছাড়তনা, সেখানেই বসবাস করত। এছাড়াও মাটির ঘর যাকে কোঠার ঘর বলতো, সেই ঘরেরও প্রচলন ছিল এলাকায়। প্রায় প্রত্যেক বাড়ীতে বাড়ীতে খোলতায় থাকতো বৈঠকখানা। ঘর, আঙ্গিনা, দরজা মাটি দিয়ে লেপা হতো। . বুকানন হেমিল্টন ১৮০৯ সালে বোদা পরগনায় পরিদর্শন করতে এসে একটিও পাকা বিল্ডিং দেখতে পাননি মানুষের বসবাসের জন্য। বড় বড় জোতদার, জমিরদারদের হয়ত / কুড়ে ঘর, রান্না ঘর আলাদা, আর সাধারণ মানুষের দুটো ঘরেই যথেষ্ট ছিল। সবাই বর্ষাকাল ব্যতিরেকে খোলা আকাশের নিচে রান্নাবান্না করত। ঐসময় বোদা পরগনায় সম্পূর্ণ পরিদর্শন করে . বুকানন, সেখানে কোন ইটের তৈরী পাঁকা ঘরবাড়ী দেখতে পাননি। অধিকাংশ ঘরবাড়ী ছিল কুড়েঘর। সেগুলো উলুখড় কাশবন দ্বারা আবৃত থাকত। সামান্য কিছু বাড়ীঘর বিন্যাখড় দ্বারা আবৃত বাড়ীর চার পাশে বাঁশ দিয়ে ঘেরা হতো। অঞ্চলের মুসলমানদের মসজিদ গুলো ছিল কুঁড়ে ঘরের।
অন্যান্য ধর্মের উপসনালয় গুলো কুঁড়েঘর হলেও কেবল মাত্র দুটি মন্দির তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়েছিল যা ইটের তৈরী। পরিধেয় বস্ত্রের ব্যাপারে যতটুকু জানা যায়, মেয়েরা সেলাইবিহীন একটি বস্ত্র খন্ড ব্যবহার করত। কেউ কেউ শাড়ী ব্যবহার করত। সাধারণত বাইরে বের না হলে ব্লাউজ পড়ার রেওয়াজ ছিলনা অঞ্চলে বরং বুকানি করে বস্ত্রখন্ড পরিধানের রেওয়াজ ছিল। পুরুষেরা ধুতি, লুঙ্গি, পিডান পরিধান করত। দরিদ্র জনগোষ্ঠী নেংটি পরিধান করত। পাদুকা পরার প্রচলন ছিলনা তবে ধনীক শ্রেণী কাঠের তৈরী খরম ব্যবহার করত। ১৯৩০ সালের দিকে অঞ্চলে রাজবংশী ক্ষত্রীয় সমিতি গড়ে তোলে, সমাজ সংস্কার আন্দোলন। এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে মেয়েদের বুকানি পরে যত্রতত্র যাতায়াত বন্ধ এবং পুরুষদের নেংটির পরিবর্তে বড় কাপড়, ধুতি, লুঙ্গি পরিধান করা জন্য প্রচার চালানো হয়। ফলে জলইপাইগুড়ি জেলার অন্যান্য অংশের ন্যায় অঞ্চলেও বুকুনী নেংটি পরার প্রচলন কমে যায়। প্রাচীনকালে বঙ্গদেশে কৃষি কাজ করা হতো, যারা হাল দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করে চাষাবাদ করত তাদের বলা হতো বঙ্গ+আল=বঙ্গাল=বাঙ্গাল= বাঙ্গালী। তারা আবাদ করতো ধান, কাউন, পয়রা, আখ, আলু, আঙ্গালু, ধেমসী ইত্যাদি। ঢেঁকিছাটা চাউলের ভাত ছিল প্রধান খাদ্য। এছাড়া কাউনের ভাত, পয়রার ছাতু, চাউল ভাজা ছিল অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাদ্য। ভাতের সঙ্গে মাছমাংসের প্রচলন ছিল সেই প্রাচীন কাল থেকেই। শোল, বোয়াল, কই, শিংগী, মাগুর, ভেদা, বালি, টেপা, বাইন, পঁয়া, গচি প্রভৃতি মাছ মানুষ পছন্দ করতো। হাঁস, মূরগী, ছাগল, ঘুঘু, কবুতর, পানি মাছ (কচ্ছপ), পাঠা, কাঁকড়া, কুচিয়া, বাইন মাছ প্রভৃতি মাংসের মধ্যে মানুষের পছন্দের ছিল নিরামিষ শাকসবজির মধ্যেবেগুন, কচু, কদু, কুমড়া, টমেটো, ছ্যাকা, কচুর ভর্তা, শুটকি, সিদঁল, ঢেকিয়া, পাটাশাক, লাফাশাক, কচুর মুড়া, প্যালকা ইত্যাদি। সরিষার তেল মহিষের দুধের ঘি প্রচলন ছিল প্রাচীন কাল থেকেই। নাস্তা হিসাবে দুধ, দই, চিড়া, মুড়ির প্রচলন ছিল। প্রাচীল কাল থেকেই এলাকার মানুষ পান, সুপারি নিজেরাও খেতো এবং অতিথিদের মধ্যে আপ্যায়ন করতো, যার প্রচলন এখনো পরিলক্ষিত। সেই সময় আখের প্রচুর আবাদ হতো মানুষ প্রচুর আখের রস জ্বাল দিয়ে গুড় বানিয়ে খেত। প্রাচীল কালে অঞ্চলে ডাল খাওয়ার কোন তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়নি।
প্রাচীন কাল থেকে অঞ্চলের মানুষ ছিল ধীরস্থীর শান্ত স্বভাবের। সকল মানুষই আরাম প্রিয় ছিল। সকালে ঘুম থেকে ওঠেই কৃষি কাজ সেরে স্নান করে আর কোন কাজ করতো না অধিকাংশ মানুষ। দুপুরের পরে নিজের বা কারো বৈঠকখানায় অথবা বড় কোন গাছের ছায়াতলে মাচা পেতে শুয়েবসে খোশগল্পগুজবে মেতে উঠতো এভাবে কেটে যেতো পড়ন্ত বিকেল রাতে পুথি পড়ে, যাত্রা, রংপাঁচালী গান শুনে সময় কাটাতো শীতকালে সকাল সন্ধ্যাবেলায় আগুন পোহানো ছিল একটি পরিচিত দৃশ্য যা স্বল্প পরিসরে আজো বলবৎ আছে। চায়ের প্রচলনের কোন তথ্য নেই। তবে হুক্কা পাতার বিড়ি খাওয়ার অভ্যাস ছিল অনেকের, বড়দের পাশাপাশি হুক্কাতে মুখ বসাতো ছোটরাও।
প্রাচীন কাল থেকেই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সামাজিকতার ছাপ স্পষ্ট ছিল। গ্রামের অসুস্থ্য মানুষকে দেখতে যাওয়া, মৃত মানুষের চিতা জানাযায় অংশ নেওয়া ছিল সামাজিক রীতি। মৃত ব্যক্তির বাড়ীতে কয়েকদিন যাবৎ রান্না বান্না হতো না। প্রতিবেশীরাই এই সময় খাবার সরবরাহ করত। যা আজো আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় প্রচলিত আছে। এই জনপদের পর্দাপ্রথা খুব একটা ছিলনা বললেই চলে। উচ্চবিত্তের মহিলাদের মধ্যে মোটামুটি পর্দার প্রচলন চিল। গ্রামের দরিদ্র মহিলাগণ গ্রামের মধ্যেই মুক্ত ভাবে চলাফেরা করতেন। অবশ্য অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে বের হতেন না, এবং কথা বলতে চাইতেন না। উচ্চবিত্তের হিন্দু মহিলারাও পর্দা মেনে চলতেন।

পরিবেশ
প্রাচীন কাল হতে মানুষ গরু/ মহিষ দিয়ে হাল চাষ করতো এবং গরু/মহিষের গাড়ীতে চড়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করতো। বিগত তিন দশকে অঞ্চলের জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষির আমুল পরিবর্তন হয়েছে। প্রকৃতি যেভাবে তার আগ্রাসী ছোঁয়ায় আমাদের পরিবেশকে ধ্বংস করছে, তার চেয়ে বেশী ধ্বংস করছি আমরা নিজেরাই। কিন্তু বিগত তিন দশকে কৃষি ক্ষেত্রে যে ভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারের নামে সার, বীজ, কীটনাশক, স্যালোমেশিন এবং পাওয়ার টিলারের ব্যবহার দেখা দিয়েছে, তা আমাদের গ্রামীন পরিবেশের দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে ফেলেছে। যা আমাদের জন্য উপকারের সাথে সাথে অপকারও বয়ে এনেছে। এছাড়া যেখানে মানুষ পরিবেশের সম্পর্ক নিবিড়, সেখানে মানুষ পরিবেশের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আমাদের উপর প্রকৃতি তার হিংসাত্মক ভাব পোষণ করছে। সৃষ্টি করেছে বন্যা, ভূমিকম্প, খড়ার ন্যায় ভয়াবহ দূর্যোগ। সর্বোপরি অন্য অঞ্চলের মতো অঞ্চলেও শতভাগ সুস্থ্য পরিবেশের অভাব অঞ্চলে বিদ্যমান। ইউক্যালিপটাস গাছের আধিক্য সহ পরিবেশ বিনাশী তৎপরতা সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়া, অসময়ে খড়া, বৃষ্টি ইত্যাদি দূর্যোগ নেমে আসছে
বর্তমানে অঞ্চল প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারাচ্ছে। কেঁচো, পাখি, মৌমাছি, কীট পতঙ্গসহ নানা কারনে পারছেনা তাদের স্বাভাবিক জীবন ধারণ করতে। এমনকি প্রজননের প্রতিকূল পরিবেশের কারণে পারছে না বংশবিস্তার করতে। আজকে বৈশাখ মাস। গম কাটার পরে বোরো আবাদের শেষ ক্ষণ। গম কাটার পরে জমি খা খা করছে, তাকিয়ে আছে প্রকৃতির দিকে, তিন দশক আগেও কেঁচো সহযোগিতা করতো আবাদি জমি চাষে। অধিকাংশ জমিতে মাটি উপর থেকে নিচে, নীচ থেকে উপরে নিয়ে এসে মাটি নরম করতো। তাই কেঁচোকে প্রকৃতির লাঙ্গল বলা হয়। কারন কৃষক লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করতো, আর কেঁচো চাষের প্রাথমিক কাজটিতে অনেকটা সহায়ক ভূমিকা পালন করতো। এক সময় বর্ষাকালে গ্রামের মানুষ কেঁচোকে মাছ ধরার টোপ হিসেবে ব্যবহার করে লাভবান হতো। এখন যেহেতু অপরিকল্পিত পুকুর/ডোবা নেই, তাই আর কেঁচোকে মাছ ধরার টোপ হিসেবে ব্যবহারের কথা ভাবে না মানুষ। আজকাল কেঁচো চোখে পড়ে না বললেই চলে।
এক সময় মৌমাছির বিচরণ ছিল অঞ্চলের সর্বত্র। বড় বড় মৌচাকসহ মৌমাছি দেখা যেত অভিজাত পরিবার গুলোতে বিভিন্ন বনজঙ্গলে, আর সেই সব মধু সংগ্রহ করা হতো গ্রামীণ কায়দায় সংগৃহীত মধুকে ব্যবহার করা হতো চিনি গুড়ের বদলে, এছাড়াও সর্দিকাশি জ্বরের ঔষধ হিসেবেও ব্যবহার করা হতো। সামাজিক নানান আচার অনুষ্ঠানে যেমনশিশু জন্মের পর পরই বয়োজ্যষ্ঠরা শিশুর মুখে মধু দিয়ে নতুন অতিথিকে বরণ করে নিতো। জন্মের সময় মধু মুখে দিলে সন্তান মিষ্টভাষী, শান্ত¤্রভদ্র স্বভাবের হবে ধরনের একটা বিশ্বাস ছিল অঞ্চলের মানুষের মধ্যে। বর্তমানে মৌমাছির চাক দেখা যেন অমাবস্যার চাঁদ দেখার মত।
আগে নানান প্রজাতির পাখির বিচরণ ছিল অঞ্চলের সর্বত্রই। বিশেষকরে শীত কালে নানান প্রজাতির অতিথি পাখি অঞ্চলে দেখা যেত, কিন্তু এখন আর শীতের পাখি তেমন একটা দেখা যায় না। গত তিন দশক আগেও অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে বিচরণ ছিল শালিক, বক, চিল, ঘুঘু, কোকিল, মাছরাঙ্গা, ডাহুক, দোয়েল, কাক, চাতক, কবুতর, বুলবুলি, ময়না, টিয়া, শ্যামা, কাঠঠোকরা, ধনেশ, বাবুইসহ আরো অনেক প্রজাতির পাখি। কয়েক বছর আগেও শীতের সকালে কৃষি জমি চাষ করার সময় কৃষকের হালগরু লাঙ্গলের পিছনে পিছনে এক শ্রেণীর পাখি কিচির মিচির কণ্ঠে মুখরিত করে তুলতো পরিবেশ। যেন অনুপ্রেরণা যোগানের জন্য কৃষককে অনুসরণ করতো এসব পাখি। আর সেই দৃশ্য অঞ্চলের মানুষের কাছে হিমালয় পর্বতমালার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য অবলোকন করার চেয়েও কোন অংশে কম ছিল না। কিন্তু এখন আর সে দৃশ্য চোখে পড়ে না, কারণ আজকাল হারিয়ে যাচ্ছে পাখি, বদলে গেছে জমি চাষের ধরণ, জমিচাষে ব্যবহার হচ্ছে লাঙ্গল গরুর বদলে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি।
এক সময় বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ছিল গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ। এক সময় বাড়ী পাহাড়াদার হিসেবে বিশ্বাসী প্রভুভক্ত ছিল কুকুর। বিড়াল বাড়ীর শোভা বর্ধন করতো বাড়ীতে বাড়ীতে বিড়াল দেখা যেত। এখন আর দৃশ্য খুব কমই চোখে পড়ে।
কালক্রমে আমাদের অঞ্চলে জীবন মানে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষণীয়। বিগত তিন দশকেও কোন জোতদারের ছেলে মেয়ের দুটো পরিধেয় বস্ত্র ছিলনা। একটা শার্ট কিংবা প্যান্ট বড় ভাই পরার পরে সেটা কেটে ছোট ভাই পরতো। ঈদ, পুজা পার্বন ছাড়া কাপড় কেনা কোন বিত্তশালীদেরও সম্ভব ছিল না। সাধারণ মানুষতো দূরের কথা বিত্তবানরা দুবেলা ভাত খেতে পারে নি। চলাচলের জন্য বাইসাইকেল ছিল সর্বোচ্চ বাহন। কিন্তু আজকাল সেই সব পরিবারের প্রাইভেট কারে চলাফেরা করা অসম্ভব নয়।

শেষকথা
সময়ের বিবর্তন প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক নিয়মেই প্রভাবিত করবে। প্রত্যাশা এটাই ঐতিহ্যকে ধারণ করে, প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। নতুন নির্মাণে আমরা যেন বোদার অতীতকে ভুলে না যাই। অতীতকে ধারণ করে গ্রহণবর্জনের বাস্তবতাকে আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আশাকরি পুরাতনের সাথে নতুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে আমরা নিশ্চয়ই উন্নত সংস্কৃতিসমৃদ্ধ বোদা গড়ে তুলতে সক্ষম হবো-

মোঃ এমরান আল আমিন, এম,এ (ঢাবি) এল,এল বি

সারাদেশের পৌরসভা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কঠোর কর্মসূচির ঘোষনা

নিউজ ডেক্স : আগামী ১০ মার্চ থেকে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ভাতা ও পেনশন সুবিধা প্রাপ্তির দাবীতে বাংলাদেশের সকল পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন একযোগে পৌরসভার সকল কর্মকান্ড ও নাগরিক সেবা বন্ধ রেখে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তাহলে কি হবে নগরজীবনের? ময়লা আবর্জনা অপসারন, পরিচ্ছন্নতা, পয়োঃনিষ্কাশন, রাস্তা আলকিতকরন,সহ সকল নাগরিক সেবা বন্ধ থাকলে কি হবে উপজেলা ও জেলাশহর গুলোর পরিবেশ। উল্লেখিত সেবাসমুহ বন্ধ থাকলে যে নগরজীবনে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।পৌরসভা সাংবিধানিকমতে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, তাই আইনগতভাবে পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। অবকাঠামো উন্নয়ন,আবর্জনা অপসারন,পানি ও পয়োঃনিষ্কাশন,ড্রেনেজব্যবস্থা, রাস্তা আলোকিতকরন,বিভিন্ন সনদ প্রদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা,জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সহ নাগরিকগনের জন্ম থেকে মৃত্য পর্যন্ত সকল নাগরিক সেবা পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাধ্যমে এসকল সেবা প্রদান করে থাকে। জানা গেছে পৌরসভায় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এমনকি তাদের বদলী ও পদোন্নতিও সরারসরি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু বেতনভাতা প্রদানের দায়িত্ব পৌরসভার উপর ন্যস্ত।

কিন্তু পৌরসভাগুলোর পর্যাপ্ত আয় না থাকায় বর্তমানে পৌরসভাভেদে ২ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে! এমনকি পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীগনের অবসরকালিন পেনশন সুবিধা নেই ফলে ইতিমধ্যে যারা অবসরে গিয়েছেন তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানা গেছে।

পৌর সার্ভিস এসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি সফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হয়ে সবচেয়ে বেশি নাগরিক সেবা প্রদান করেও তারা সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এমতাবস্থায় আমরা দীর্ঘদিন থেকে আবেদন নিবেদন ও কর্মসূচি পালন করে আসলেও আশানুরূপ কোন সাঁড়া না পেয়ে আগামী ১০ মার্চ থেকে দাবী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত পৌরসভার সকল সেবা ও কর্মকান্ড বন্ধ রেখে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। একান্ত নিরুপায় হয়েই তারা এই কর্মসূচিতে যাচ্ছেন। তাই তাদের বর্তমানের মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনের সুরক্ষার জন্য সরকারী কোষাগার থেকে বেতনভাতা সহ পেনশন সুবিধা প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও নামকরণের ইতিহাস

মজিবর রহমান শেখ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পূর্বের নাম ছিল ‘নিশ্চিন্তপুর’। ১৭শ শতাব্দীর কোচবিহারের মানচিত্রে দেখানো হয়েছে যে তাতে ঠাকুরগাঁও ও নিশ্চিন্তপুর নামে দু’টি আলাদা জায়গা চিহ্নিত আছে। টাঙ্গন নামক নদীর পূর্ব প্রান্তে নিশ্চিন্তপুর এবং কিছুটা উত্তর-পশ্চিমে টাঙ্গন নদীর পশ্চিম প্রান্তে ঠাকুরগাঁও দেখানো হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় টাঙ্গন নদীর পূর্ব প্রান্তের নিশ্চিন্তপুরকেই পরে ঠাকুরগাঁও নাম দিয়ে সদরের নামকরণ করা হয়েছিল।

এছাড়া আরও জানা যায় যে জেলার অফিস-আদালত থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে আকচা নামক ইউনিয়নের একটি মৌজায় নারায়ণ চক্রবর্তী ও সতীশ চক্রবর্তী নামে দুই ভাই বসবাস করতেন। সম্পদ ও প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে তারা সেই এলাকায় খুব পরিচিত ছিলেন। সেখানকার লোকজন সেই চক্রবর্তী বাড়িকে ঠাকুরবাড়ি বলতেন। পরে স্থানীয় লোকজন এই জায়গাকে ঠাকুরবাড়ি থেকে ঠাকুরগাঁও বলতে শুরু করে।

চক্রবর্তী বাবুরা অনুরোধে জলপাইগুড়ির জমিদার সেখানে একটি থানা স্থাপনের জন্য বৃটিশ সরকারকে রাজি করান।  ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের গোড়ার দিকে এখানে একটি ঠাকুরগাঁও নামে থানা স্থাপন করা হয়। পরে টাঙ্গন নদীর পূর্বতীরে নিশ্চিন্তপুরে ঠাকুরগাঁও থানা স্থানান্তরিত হয়। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের বাংলাদেশের একটি জেলা নামে আত্মপ্রকাশ ঠাকুরগাঁও জেলা।

বিস্তারিত ইতিহাস

টাংগন, শুক ও সেনুয়া বিধৌত এই জনপদের একটি ঠাকুর পরিবারের উদ্যোগে বৃটিশ শাসনমলে বর্তমান পৌরসভা এলাকার কাছাকাছি কোনো স্হানে একটি থানা স্হাপিত হয়। এই পরিবারের নাম অনুসারে থানাটির নাম হয় ঠাকুরগাঁও থানা। “ঠাকুর” অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের সংখ্যাধিক্যের কারণে স্হানটির নাম ঠাকুরগাঁও হয়েছে।

১৭৯৩ সালে ঠাকুরগ্রাম অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৬০ সালে এটি মহকুমা হিসেবে ঘোষিত হয়। এর অধীনে ছয়টি থানা ছিল, এগুলো হলঃ ঠাকুরগাঁও সদর, বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, হরিপুর ও আটোয়ারী। ১৯৪৭ সালে এই ৬টি থানা এবং ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার ৩টি থানা ও কোচবিহারের ১টি থানা (পঞ্চগড়, বোদা, তেতুলিয়া ও দেবীগঞ্জ) নিয়ে ১০টি থানার মহকুমা হিসেবে ঠাকুরগাঁও নুতনভাবে যাত্রা শুরু করে। কিন্ত ১৯৮১ সালে আটোয়ারী, পঞ্চগড়, বোদা, দেবীগঞ্জ ও তেতুলিয়া নিয়ে পঞ্চগড় নামে আলাদা মহকুমা সৃষ্টি হলে ঠাকুরগাঁও মহকুমার ভৌগোলিক সীমানা ৫টি থানায় সংকুচিত হয়ে যায়। থানাগুলি হচ্ছেঃ ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর। ১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী ঠাকুরগাঁও মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়।

ছোট জেলা হলেও ঠাকুরগাঁও প্রাচীন ঐতিহ্যসমৃদ্ধ একটি জনপদ। এখানে যেমন উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর (সাঁওতাল ও উরাও) মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছে, তেমনিভাবে বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলমান শাসনামলে বিভিন্নমুখি পরিবর্তনের ছোয়ায় পালাবদলের প্রক্রিয়া চলেছে। জেলার নেকমরদ, রাণীশংকৈল এসব স্হানে সুপ্রাচীন সভ্যতার নির্দশন বিদ্যমান।

অতীত এবং বর্তমান বিচারে উত্তরাঞ্চলের মধ্যে ঠাকুরগাঁও একটি সমৃদ্ধ জেলা। ১৯৭১-এ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বরেন্দ্র ভূমির অন্যান্য জেলার মতই এই জেলার মানুষ ক্রমান্বয়ে উন্নততর যোগাযোগ ব্যবস্যা এবং উন্নয়নের অন্যান্য সুফল লাভে সক্ষম হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষ বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে যোগসূত্র স্হাপন করে সকল সামাজিক, রাজনৈতিক আন্দোলনে ভাগীদার হয়েছে এবং নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপন

ঠাকুরগাঁও জেলারয় বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর তালিকাভুক্ত দুটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা আছে। সেগুলো হচ্ছে ঢোলহাট মন্দির ও জামালপুর জামে মসজিদ। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হচ্ছে হরিপুর রাজবাড়ি।

অর্থনীতি

প্রধান শস্যঃ ধান, গম, আখ। রপ্তানী পণ্যঃ ধান, চাল, আম।

শিক্ষা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: বিশ্ববিদ্যালয়: ০; কলেজ : ২৭; মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ২৪১ ও মাদ্রাসা : ৭৪

কৃতি ব্যক্তিত্ব

রাজা গণেশ, (শাসনকাল ১৪১৫) ছিলেন বাংলার একজন হিন্দু শাসক। তিনি বাংলার ইলিয়াস শাহি রাজবংশকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় আসেন।সুরবালা সেনগুপ্ত, (১৮৮১ – ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩) ছিলেন ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বিপ্লবী নেত্রী।নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ (জন্ম : ১৪ এপ্রিল, ১৯১২ – মৃত্যু ৪ আগস্ট ১৯৯৪) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের বিপ্লবী।নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, (৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৮ – ৬ নভেম্বর, ১৯৭০) একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক ।স্বদেশরঞ্জন মুখোপাধ্যায় (জন্ম : ১৯২৪ – মৃত্যু ২০০৩) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী।তৃপ্তি মিত্র, (২৫ অক্টোবর, ১৯২৫ – ২৪ মে, ১৯৮৯) বাংলা ভাষার থিয়েটার ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেত্রী এবং শম্ভু মিত্রের স্ত্রী।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, (জন্মঃ ১ আগস্ট, ১৯৪৮) হচ্ছেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।রমেশ চন্দ্র সেন,(জন্মঃ ৩০ এপ্রিল  ১৯৪০)হচ্ছেন সংসদ সদস্য ঠাকুরগাঁও – ১

নদীসমূহ

ঠাকুরগাঁওয়ে অনেকগুলো নদী রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে টাঙ্গন নদী, ছোট ঢেপা নদী, কুলিক নদী, পুনর্ভবা নদী, তালমা নদী, পাথরাজ নদী, কাহালাই নদী, তীরনই নদী, নাগর নদী, তিমাই নদী, এবং নোনা নদী। এছাড়াও আছে শুক নদী, ছোট সেনুয়া নদী, আমনদামন নদী, লাচ্ছি নদী, ভুল্লী নদী এবং সোজ নদী।

চিত্তাকর্ষক স্থান

জামালপুর জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ – শিবগঞ্জহাট;বালিয়াডাঙ্গী সূর্য্যপূরী আমগাছ – প্রায় ২০০ বছরের পুরনো, হরিণ মারি গ্রামে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;ফান সিটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক – পীরগঞ্জ;রাজভিটা – হাটপাড়া, জাবরহাট ইউনিয়ন, পীরগঞ্জ উপজেলা;রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি – রানীশংকৈল উপজেলা;হরিপুর রাজবাড়ি – হরিপুর উপজেলা;জগদল রাজবাড়ি – রানীশংকৈল উপজেলা;প্রাচীন রাজধানীর চিহ্ন – নেকমরদ, রানীশংকৈল উপজেলা;নেকমরদ মাজার – রানীশংকৈল উপজেলা;মহেশপুর মহালবাড়ি ও বিশবাঁশ মাজার ও মসজিদস্থল – রানীশংকৈল উপজেলা;শালবাড়ি ইমামবাড়া – ভাউলারহাট, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা;সনগাঁ মসজিদ – বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;ফতেহপুর মসজিদ – বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;মেদিনী সাগর মসজিদ – হরিপুর উপজেলা;গেদুড়া মসজিদ – হরিপুর উপজেলা;গোরক্ষনাথ মন্দির এবং কূপ – রানীশংকৈল উপজেলা;হরিণমারী শিব মন্দির – বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;গোবিন্দনগর মন্দির – ঠাকুরগাঁও শহর;ঢোলরহাট মন্দির – ঠাকুরগাঁও শহর;ভেমটিয়া শিবমন্দির – পীরগঞ্জ পৌরসভা;মালদুয়ার দুর্গ – রানীশংকৈল উপজেলা;গড়গ্রাম দুর্গ – রানীশংকৈল উপজেলার;বাংলা গড় – রানীশংকৈল উপজেলা;গড় ভবানীপুর – হরিপুর উপজেলা;গড়খাঁড়ি – বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা;কোরমখান গড় – ঠাকুরগাঁও শহর;সাপটি বুরুজ – ঠাকুরগাঁও উপজেলা;দিঘি – ঠাকুরগাঁও জেলার উল্লেখযোগ্য দিঘিগুলো হলো-গড়েয়াহাট দিঘি, লস্করা দিঘি, টুপুলী দিঘি, শাসলা ও পেয়ালা দিঘি, ঠাকুর দিঘি(দানারহাট), আঠারো গান্ডি পোখর-ঠাকুরগাঁও উপজেলায়। আধার দিঘি, হরিণমারী দিঘি, রতন দিঘি, দুওসুও দিঘি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়। রামরাই দিঘি, খুনিয়া দিঘি, রানীসাগর-রানীশংকৈল উপজেলায়। মেদিনীসাগর দিঘি হরিপুর উপজেলায়। রানীশংকৈলের রামরাই দিঘি ঠাকুরগাঁও জেলার সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহৎ । দিঘিটি পাঁচশ থেকে হাজার বছরের পুরাতন হতে পারে। এর সঠিক ইতিহাস জানা যায় না।

তথ্যসূত্র

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নঠাকুরগাঁও জেলা তথ্য বাতায়নঠাকুরগাঁও পরিক্রমাঃ ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ঠাকুরগাঁও ফাউন্ডেশন