আগামীকাল ঠাকুরগাঁও আসছেন প্রধানমন্ত্রী

নি উজ ডেক্স : আগামীকাল ঠাকুরগাঁও আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঠাকুরগাঁওয়ে দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনী।  ৬৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

খালেদাকে মুক্তির শপথ বিএনপি

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে শোভাযাত্রা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে মালিবাগ-শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তারা কারাগারে থাকা খালেদা জিয়াকে মুক্তির শপথ নেন।

দীর্ঘদিন পর এটি বিএনপির বড় ধরনের পথযাত্রা। এর আগে বিএনপি অবস্থান কর্মসূচি কিংবা সভা সেমিনার করলেও রাজপথে নামতে পারেনি। শোভাযাত্রা উপলক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। এরপর বেলা দুইটার দিকে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত নানা ধরনের ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন দলটির নেতা–কর্মীরা।

তবে বিএনপির শোভাযাত্রা উপলক্ষে আগে থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শোভাযাত্রার এক পর্যায়ে বেলা দেড়টার দিকে পিকআপ ভ্যানের তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতারা। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস করে তাদের অবশ্যই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য শপথ নিতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার বিকল্প নেই।’

দেশের মানুষ শান্তি চায়, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায় বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ সরকার গঠন নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। জনগণের জন্য একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

হাসপাতালগুলোতে ৪০ হাজার কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ৪০ হাজার কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী সমিতি সমন্বয় পরিষদের নতুন ও বিদায়ী কমিটির নেতাদের সংবর্ধনা দিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সীমিত সম্পদ নিয়েও সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রায় ৮ হাজার চিকিৎসক ও ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার চিত্রের ইতিবাচক উন্নয়ন ঘটানো হলেও ৪০ হাজার কর্মচারীর শূন্যতার কারণে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, দালাল চক্রের উৎপাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ এখনো পিছু ছাড়ছে না। যত দ্রুত সম্ভব কর্মচারীদের শূন্য পদ পূরণ করা হবে।
৪০ হাজার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সেবার কথা বিবেচনা করেই এই নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এমনকি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, কিছুদিনের মধ্যে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। যাদের সবাইকে তিন বছর করে গ্রামের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দিতে হবে। জনসেবার চেয়ে বড় আর কিছু হতে পারে না। আমরা সেই কাজটিই করে যাচ্ছি।
‘বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না’ দলের নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তাকে তো আমরা আটকে রাখিনি। আদালত আটকে রেখেছে। আমাদের কী করার আছে? চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক।’
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মহাসচিব ইহতেশামূল হক চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাসস

২০০ কোটি টাকায় কক্ষপথ ক্রয় করলো বাংলাদেশ

দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১’ উৎক্ষেপণ করার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনা হয়েছে। রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টার স্পুটনিকের কাছ থেকে এই কক্ষপথ কেনা হয়।

নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১’ -এর জন্য প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় কক্ষপথ কেনা হয়েছে। ১৫ বছর পরে এই কক্ষপথ আবারও কিনতে হবে।

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হতে পারে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো হবে।

তিনি জানান, স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে। তবে তার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় সুইচ টিপে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কাজ উদ্বোধন করবেন।

উল্লেখ্য, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট সদস্য দেশের তালিকায় নাম লেখাবে বাংলাদেশ।

শাহজাহান মাহমুদ জানান, স্যাটেলাইট পাঠানোর কাজ যুক্তরাষ্ট্র থেকে করা হলেও পরবর্তীতে এটি বাংলাদেশ থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ লক্ষ্যে গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্প পুরো বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। আর ঋণ হিসেবে এইচএসবিসি ব্যাংক বাকি ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

সজাগ থাকুন, স্বাধীনতা বিরোধীরা যেন কখনো ক্ষমতায় আসতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেক্স : এই দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের, স্বাধীনতা বিরোধীদের নয়’, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশবিরোধী শক্তি কোনদিন যেন এদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লাখো শহীদের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা যেন কোনদিন ব্যর্থ হতে না পারে এজন্য দেশবাসীসহ সকলকে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশ স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গি এবং যুদ্ধাপরাধীদের দেশ নয়, এই দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের, আমরা সেভাবেই দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করতে চায়, তারা যেন কোনদিন ক্ষমতায় না আসতে পারে, আগামীতে এ দেশ হবে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের। রাজাকার, আলবদর, আল শামস আর খুনীরা যেন আর কখনো ক্ষমতায় না আসতে পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনে ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের জন্য সম্পদ করা নয়, জনগণ যাতে সম্পদশালী হয়, উন্নত হয়, বাংলাদেশে একটা মানুষও যাতে গৃহহারা না থাকে, কেউ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায় এবং একটা মানুষও বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না- আমরা সেটাই করতে চাই। তাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় থেকে উন্নয়ন করা, আমরা গ্রাম পর্যায় থেকে উন্নয়নের কাজটা শুরু করেছি।
কোন ঘর অন্ধকারে থাকবে না দেশের প্রতি ঘরকে তাঁর সরকার আলোকিত করবে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, সেই লক্ষ্য এবং নীতি নিয়েই তিনি দেশ পরিচালনা করছেন বলেই দেশে আজ এই উন্নতিটা হচ্ছে, আর ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো দেশের কোন উন্নতি করতে বা দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারে নাই, তারা নিজেরা মুষ্টিমেয় কিছু লোকই সম্পদশালী হয়েছে আর বাকীর খাতায় শূন্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন এবং ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএ রহমতউল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
এছাড়াও, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক সাদেকা হালিম বক্তৃতা করেন। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সভাটি পরিচালনা করেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
দেশে জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই খেলাপি ঋণের কালচার চলে আসছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জিয়ার আমল থেকেই এই দুর্নীতির শুরু যা ধারবাহিকভাবে জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া যখনই যে সরকারে এসেছে, তাই করেছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতি করা আর নিজেদের সম্পদ গড়া, নিজেদের বিলাস-ব্যসন, ভোগ- বিলাস- এই নিয়েই তারা ব্যস্ত ছিল। দেশের মানুষের দিকে তারা ফিরে তাকায়নি।

দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে নানা সময়ের ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে তাকে গ্রেফতারের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘তখন অত্যাচার নির্যাতন করেছে বিএনপি সরকার। আর গ্রেফতার করা হলো আমাকে। কারা এই কাজ করেছে, তা আমি জানি।’
বিএনপি-জামায়াত জোটের সময়ের বিবরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তারা বাংলা ভাই সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের দেশে পরিণত করেছে। গ্রেনেড হামলা তো আছেই। এইভাবে অত্যাচার করে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা করেছে তারা, ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে।
শেখ হাসিনা আবারও মসজিদের ইমাম, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় দেবেন না। এসব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করবেন। যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী তারা দেশ ও মানবতার শত্রু। কোনো ছেলে-মেয়ে যেন জঙ্গিবাদে না জড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ছেলে-মেয়েরা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে।
২০০৮ সালের নির্বাচনেও যেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসতে পারে, তার জন্যও ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার গঠন করলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলব। যে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করলেন, তারা ভিক্ষা করবে বা রিকশা চালাবে, এটা অপমানজনক।
সরকার প্রধান দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তাদের সন্তানেরা পড়ালেখার সুযোগ পাবে না, সেটা হতে পারে না। তাই আমরা ক্ষমতায় এসে তাদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করলাম। আমরা চেষ্টা করছি, সবার মধ্যে ইতিহাসকে ছড়িয়ে দেওয়ার।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম ধীরে ধীরে উজ্জীবিত হচ্ছে, তারা সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। অথচ ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা জানে না (ষড়যন্ত্রকারীরা), ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০৮ সালে সরকার গঠন করেছি। এরপর ২০১৩ সালে তারা এক দুর্বিষহ অবস্থা তৈরি করে। সেই অবস্থা আমরা সামাল দিয়েছি। ২০১৪ সালে আবার নির্বাচন হয়, মানুষের ভোটে ক্ষমতায় আসি। কিন্তু তারা (বিএনপি-জামাত) ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে।
বিএনপি-জামায়াত সাড়ে ৩ হাজার মানুষ পুড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজার হাজার গাড়ি, বাস, ট্রাক, লঞ্চ আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। সরকারি অফিসে আগুন দিয়েছে। কেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো-এটাই তাদের অন্তর্জ্বালা। তারা তো ক্ষমতায় থেকে ভোগ-বিলাস করেছে, মানি লন্ডারিং করে ধরা পড়েছে।
তিনি বলেন, তারা এতিম খানার টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করেছে। সবকিছু ধরা পড়েছে। এতে আমাদের কোনও হাত নেই। কিন্তু আদালত তাদের সাজা দিলে তারা মানে না। তারা কিছুই মানে না। তারা ক্ষমতায় থেকে মানুষকে হত্যা করেছে, এখনও তাই করতে চায়। দেশের কোনও উন্নয়ন তারা চোখেই দেখে না, অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের খন্ড চিত্র তুলে ধরে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার সময় অনেকে ব্যঙ্গ করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। মানুষ সেবা পাচ্ছে, মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে, আমরা এখন স্যাটেলাইটও উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করার পরে, এটির ১৫ বছর মেয়াদ থাকবে। কাজেই ৫ বছরের মধ্যেই আবার শুরু করতে হবে। এভাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ করবো তারপরে ৩ করবো এভাবে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য নেয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে মেট্রো রেল নির্মাণ হচ্ছে, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলে টানেল, আমরা ফ্লাইওভার করে দিচ্ছি, হাইওয়েগুলো চারলেন বিশিষ্ট করে দিচ্ছি, ঢাকা-চট্টগ্রাম হয়ে গেছে। ঢাকা-সিলেট শীঘ্রই শুরু হবে, ঢাকা ময়মনসিংহ থেকে একেবারে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু পর্যন্ত- এভাবে আমরা ব্যাপকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে দিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী এ দিন পদ্মা সেতু নিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কল্পিত দুর্নীতির অভিযোগের পেছনে নোবেল জয়ী ড. মো. ইউনুসের জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, একটা মাত্র লোক বিশ্বের অনেক নামকরা প্রাইজ পেয়েও তাঁর মন ভরে নাই একটা ক্ষুদ্র ব্যাংকের এমডি পদের লোভ সামলাতে পারেন নাই। সেই এমডি পদের লোভে আমেরিকায় লবিং করে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সেই টাকা বন্ধ করে দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই আমাদের বলে গেছেন আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না, আর আমি জাতির পিতার কন্যা তাই সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে ছিলাম। তারা (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক) দুর্নীতির অভিযোগ আনতে চেয়েছিল বহু চেষ্টা করেছে। শেষমেষ এজেন্সি হায়ার করেছে আমার বিরুদ্ধে বোন ও ছেলের বিরুদ্ধে, দুর্নীতি পায় কি না। পায়নি। আবার সেই এমডি সাহেবও আমেরিকাকে দিয়ে তদন্ত করিয়েছেন কিন্তÍ তদন্ত কিছু না পেয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা বন্ধ করিয়ে আমাদের ওপর দোষারোপ করার চেষ্টা করেছেন- কানাডার ফেডারেল কোর্টে মামলা হয়েছিল তারা বলে দিয়েছে- সমস্ত অভিযোগ ভুয়া।
শেখ হাসিনা বলেন, একটা জিনিস মনে রাখবেন বিএনপি ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি যে করে নাই, সেটা আমাদের মুখের কথা নয়, আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থসম্পদ মানুষের চিরদিন থাকে না। সম্পদ কেউ কবরেও নিয়ে যেতে পারে না। কিন্তÍÍু সম্পদের জন্য মারমারি কাটাকাটি করে। মানুষ মরে গেলে ঐ সম্পদ পড়ে থাকে। কিন্তÍু মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া একজন রাজনীতিবিদের জন্য কর্তব্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুও তাই করে গেছেন আর তাঁর কন্যা হিসেবে এটা তিনি তাঁর দায়িত্ব মনে করেন বলেও উল্লেখ করেন।
পারিবারিকভাবেই ভিন্ন শিক্ষায় বড় হওয়াতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা তথাকথিত শাসক শ্রেণীর মতো হয়নি বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর বাবা বলতেন, এদেশের জনগণ যারা একবেলা ভাত পায় না তাদেরতো অতো জৌলুস দেখানোর কিছু নেই। তাদের জন্য বরং কাজ করতে হবে। রাজনীতিবিদ হিসেবে এই জনগণের জন্য কতটুকু করে যেতে পারলেন প্রাপ্তির ভান্ডারে সেইটুকুই জমা, বলেন তিনি।
তাঁর পিতা পরপার থেকে দেখছেন এবং তিনি সকল কাজে তাঁর সঙ্গে আছেন বলেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দেশের এতো উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে। আজকে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হয়ে বিশ্বে সন্মান পাচ্ছি, পিতার কাছে এটুকু বলতে পারলেও মনে শান্তি পেতেন, বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠে বলেন বঙ্গবন্ধু তনয়া।
তিনি বলেন, আমরা দুই বোন যখন কথা বলি তখন এসব উন্নয়নের কথা বলি, মনে হয় আমার আব্বা যেন শুনতে পাচ্ছেন, জানি না।’ বাসস

ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির শ্রদ্ধা

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়াই মহান স্বাধীনতা দিবসে সোমবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বেই দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলটির বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে উলামা দলের বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন নেতাকর্মীরা।

জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আবারও কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। এরআগে খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। আমরা অবশ্যই এ সংগ্রামে বিজয়ী হব।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মো: শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়নাল আবদীন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

অন্যান্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদকর শামীমুর রহমান শামীম, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মোর্শেদ হাসান খান, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ওলামা দলের সভাপতি এম এ মালেক প্রমুখ।

জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে সকাল ৯টা থেকেই চন্দ্রিমা উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে আসেন দলটির বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এবার দিবসটি উপলক্ষে তিন দিনের কর্মসূচি পালন করছে দলটি।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ

নিউজ ডেক্স : মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে সদ্য স্বল্পোন্নত দেশের গ্রুপ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের যোগ্যতা অর্জনকারী গর্বিত জাতি আজ ৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করছে।
এ বছর আমাদের মহান স্বাধীনতার ৪৭ বছর পদার্পনের শুভ মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের গ্রুপ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন বিশেষ মাত্রা যোগ হয়েছে। একই সাথে গত বছরের অক্টোবরে একাত্তরের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া সেই কালজয়ী ভাষণও ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যর স্বীকৃতি লাভ করে।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ প্রত্যুষে রাজধানীতে একত্রিশ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন । এর পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধারা, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী কূটনীতিকগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল- দীর্ঘ নয় মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে।
১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তনি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকজনের নির্বিচারে গণহত্যা করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।
সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোন মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মূহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
আগামীকাল দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্প কলা একাডেমী , শিশু একাডেমীসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করবে। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রমসহ এ ধরনের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং রাতে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহ।
দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। এদিন রাজধানীর সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকাসহ নানা রঙের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুই দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ভোরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টায় সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ও সকাল ১১টায় টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।
এছাড়াও আগামীকাল ২৭ মার্চ বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন ।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন যুব ও ছাত্র সংগঠন মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল এক বিবৃতিতে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ গৃহীত সকল কর্মসূচি দেশবাসীর সাথে একাত্ম হয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য সংগঠনের সকল শাখাসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।বাসস

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

নিউজ ডেক্স :রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে জাতির পক্ষ থেকে ’৭১-এর বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
আজ ভোরে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রথমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন এবং এরপরই প্রধানমন্ত্রী শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।
তাঁরা শহীদ বেদীতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময় সশ¯্রবাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং কূটনীতিকবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে দলের পক্ষ থেকে আরেকটি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। বাসস

কারো জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না : ওবায়দুল কাদের

নিউজ ডেক্স : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে যথাসময়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়া অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারো জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না। বিএনপি নির্বাচন করবে, কি করবে না, সেটা তাদের ব্যাপার।
আজ শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নয়াপুর এলাকায় ঢাকা বাইপাস সড়ক মেরামত কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয় এমন কোন নজির নেই’- মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন করবে, কি করবে না সেটা তাদের ব্যাপার। যথাসময়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশনকে সরকার সকল প্রকার সহায়তা করবে। আর প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগেরও প্রশ্নই আসে না।’
ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে বিদেশিদের কাছে নালিশ না করে দেশের মানুষের সমর্থন নেয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিদেশীদের কাছে নালিশ দিচ্ছে, কিন্তু তারা জনগণের কাছে যাচ্ছে না। তারা আন্দোলন করতে চাইলে করুক। তবে জনগণের কাছে তাদের যেতে হবে।’
এর আগে ওবায়দুল কাদের ঢাকা বাইপাস সড়কটির মেরামত কাজের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন।
তিনি জানান, ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াইহাজার ও ঢাকা বাইপাস সড়ক সহ চারটি সড়কের সংস্কার করা হবে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই অর্থাৎ মে মাসের মধ্যে এই সংস্কার কাজ শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা তার সাথে ছিলেন। বাসস

গণতন্ত্র কি হিটলারের জার্মানি থেকে শিখতে হবে : এইচ টি ইমাম

তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্র বা নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে যারা কাজ করছে, তাদের কারও কাছে এরকম কোন সমীক্ষা হচ্ছে বলে তো কখনো শুনিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও পরবর্তীতে বিশ্বের সব দেশ মেনে নিয়েছে। ওই নির্বাচনের পরে এ সমীক্ষা হলে বুঝতে হবে এর পেছনে অন্য কারণ আছে।’

গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি ও সুশাসনের ওপর বিশ্বের ১২৯টি দেশ নিয়ে সমীক্ষার পর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’। এ ব্যাপারে বিবিসির পক্ষ থেকে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে প্রতিবেনটি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন এইচ টি ইমাম।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ড পর্যন্ত রক্ষা করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘প্রতিবেদনটিতে যে সমীক্ষার কথা বলা হয়েছে, সেটির তথ্য কোথায় পেয়েছে? ২০১৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে এই সীমক্ষা হয়ে থাকলে- তখন তো বাংলাদেশে উল্টো ঘটনা ঘটছিল। বিএনপির অগ্নি-সন্ত্রাস চলছিল, বিভিন্ন জায়গায় মানুষ হত্যা করা হচ্ছিল, আহত করা হচ্ছিল।’

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে প্রায় তিনশর বেশি দৈনিক প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদপত্র কিভাবে লিখছে দেখতে পারেন। টেলিভিশনগুলোর টক শো দেখলেও বুঝতে পারবেন। কোন কিছু সেন্সর করা হচ্ছে না।’

উল্লেখ্য, বেরটেলসম্যান স্টিফটুংয়ের সমীক্ষায় বলা হয়, বিশ্বের ১২৯টি দেশের মধ্যে ৭১টি দেশ গণতান্ত্রিক এবং বাংলাদেশসহ বাকি ৫৮টি দেশ বর্তমানে স্বৈরশাসনের অধীন রয়েছে। প্রতিষ্ঠারটির ২০১৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিশ্বের ৭৪টি দেশ গণতান্ত্রিক এবং ৫৩টি দেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চলছে।