মাদারীপুর থেকে প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা বায়রা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানী: অফিসে তালা, দিশেহারা গ্রাহকরা

জাহিদ হাসান,মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি: মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরেও চার বছর ধরে মাদারীপুরে বায়রা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানীর প্রায় এক হাজার গ্রাহক তাদের মূল টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত পাচ্ছেন না। টাকার জন্য তারা ঢাকা ও ফরিদপুর অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাননি। গ্রাহকদের তোপের মুখে এরই মধ্যে অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা গরীব অসহায় পরিবারগুলো। আর মাদারীপুর জেলা প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

বায়রা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানী ২০০৪ সালে মাদারীপুরের রাজৈরে একটি শাখা খুলে কার্যক্রম শুরু করে। এরপর নানা লোভ-লালসা দেখিয়ে জেলা সদরের বড় খালপাড়, মাথা ভাঙ্গা, ঘটকচর, সমাদ্দার, রাজৈরের আলমতস্তার, মজুমদারকান্দি, দুর্ঘাবুদ্ধিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক হাজার গ্রাহকদের কাছ থেক মাসিক ১০০ টাকা কিস্তির ভিত্তিতে ১০ বছর মেয়াদে টাকা গ্রহণ করে আসে। ২০১৪ সালে তাদের কিস্তির মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যায়। তারপর থেকে মূল টাকা ও লভ্যাংশের কোটি টাকা দাবি করে গ্রাহকরা। কিন্তু চার বছর পার হলেও আজোও মূল টাকাই ফেরত পাচ্ছে না। এরই মধ্যে রাজৈর শাখার দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যানেজার তুষার মজুমদার পালিয়েছে। টাকার জন্যে অন্য কর্মচারীদের চাপ দেয়ায় তারাও অফিসে তালা ঝুলিয়ে চলে গেছে। এতে অনিশ্চত হয়ে পড়েছে প্রায় কোটি টাকা। দুঃচিন্তায় দিশেহারা এসব গ্রাহকরা।

কোম্পানীর মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা স্থানীয়রা হওয়ায় তাদের হেনস্থা করছে গ্রাহকরা। এসব মাঠ কর্মীরাও ফরিদপুর ও ঢাকা অফিসে ধর্ণা দিয়েও কোন ফল হচ্ছে বলে দাবী করেন। তারাও টাকা আদায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান।

শাখা ম্যানেজার তুষার মজুমদারের বাড়ী রাজৈর উপজেলায়। তিনি গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে বিদেশ চলে গেছে। তার পরিবারের লোকজন দাবী করেন, অল্পদিনের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করবে।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রাহকরা আইনগত ব্যবস্থা চাইলে সহযোগিতা করা হবে। তিনি সবাইকে সচেতন হয়ে টাকা লগ্নি করার আহবান জানান।

শুধু বায়রা লাইফ ইনসিওরেন্সই নয়, মাদারীপুরে এমন আরো ১০ থেকে ১৫টি কোম্পানী চাটুকারি বিজ্ঞাপন দিয়ে বীমা ও ইনসিওরেন্স ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের কার্যক্রম প্রশাসনকে খতিয়ে দেখার দাবী সচেতন মহলের।

Leave a Comment