মাদারীপুরে মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় গ্রামছাড়া একটি পরিবার ‘স্বাক্ষীরাই জানেন না তারা স্বাক্ষী’

জাহিদ হাসান,মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি: মিথ্যা ধর্ষণের মামলার কারনে একটি পরিবার গ্রাম ছাড়া। ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষীরাই জানেন না তারা স্বাক্ষী। মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রীনদী গ্রামে ১৯ ফেব্রুয়ারী কথিত ধর্ষনের ঘটনায় জোসনা বেগম (৩২) বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। তবে স্থানীয়দের মাঝে ঘটনাটির সত্যতা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে কেউ কোন তথ্য দিতে পারেনি। এদিকে পাওয়া যায়নী ডাক্তারের রিপোর্টে কোন ধর্ষনের আলামত। তবুও গ্রাম্য রাজনীতির প্রভাবে ছোট শিশুকে ধর্ষয়ীতার খাতায় নাম লেখাতে হয়েছে। তাছাড়া মিথ্যা মামলার কারনে গ্রাম ছাড়া হয়েছে দেলোয়ারের পরিবার। নিজ ঘর ও দোকানে রয়েছে বড় বড় তালা।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায় মামলার আসামী দেলোয়ার মাতুব্বর একজন টেইলার। তার কাছে জামাকাপড় বানাতে দেয় বাদীর ছেলে জসীম। সময়মত জামাকাপড় না দেয়াকে কেন্দ্র করে ১৯ ফেব্রুয়ারী সকালে আসমীর সাথে জসিমের হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার সমাপ্তি সেখানেই হয়ে যায়। পরের দিন জানা যায় বাদীর ৮বছরের মেয়েকে ধর্ষনের অভিযোগে শ্রনদী গ্রামের মৃত সাত্তার মাতুব্বরের ছেলে তিন সন্তানে জনক দেলোয়ার মাতুব্বরকে (৫০) কে আসামী করে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ব্যাপারটি স্থানীয়দের মাঝে জানাজানি হয়ে যায়। তার পরে শুরু হয় নানা টালবাহানা। বিচারের দাবিতে হয় মানববন্ধন। মামলায় অভিযুক্ত হয়ে লাজে ও ভয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে আসামী ও তার পরিবার। আসামীর এক সন্তানকে বিয়ে দিলেও অন্য দুই সন্তান পড়াশুনা করতে পারছে না মামলার ভয়ে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। । তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক প্রতিবেদন দাবি এলাকাবাসীর।

এদিকে বাদীর স্বজনেরা জানান, মামলার বাদীর এজাহারে উল্লেখিত বর্ননার সাথে আনুষঙ্গিক বিভিন্ন প্রমানের কোন মিল না থাকার কারনেই তারা স্বীকার করে যে ধর্ষনের চেষ্টা মামলা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভুল হয়ে গেছে। গ্রামের কিছু মানুষের কথায় ধর্ষনের মামলা করাটা ভুল হয়েছে। আমার যতটুকু জানা সেখানে ধর্ষণের চেস্টা হয়েছে। ধর্ষন হয় নাই।

গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, দেলোয়ার ৩ সন্তানের জনক। তার বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছে সেই ঘরে ৭বছর বয়সের জুই নামে এক নাতি রয়েছে। সে এরকম কাজ করতে পারে না। এ রকম কোন ঘটনা আমাদের জানা নাই।

আসামী দেলোয়ার বড় মেয়ে আখী জানান, তারা মিথ্যা একটা মামলা দিয়ে আমাদের মান সম্মান নস্ট করেছে। যে মেয়ের কথা বলা হয়েছে তার মত আমার একটি মেয়ে আছে। আমি মামলাটির সঠিক তদন্ত চাই। আর এরকম ঘৃনিত কোন কাজ আমার বাবা করে নাই। আমার বাবা যে দোকানে কাজ করে তাতে কোন আলাদা রুম নেই। তাছাড়া দোকানটি আমাদের ঘরে সামনে রাস্তার পাশে। বাবা প্রায় ৩০ টি বেশি মেয়ে ও প্রায় ৪৫ টি ছেলেকে টেইর্লারের কাজ শিখিয়েছেন । আজ পর্যন্ত কোন খারাপ রিপোর্ট হয় নি।

ইশিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, কাওছার মাস্টার ও একই এলাকার সদর থানা আওয়ামীলীগের একজন সদস্য মিন্টু হাওলাদার জানান, এলাকায় ধর্ষনে কোন ঘটনা ঘটে নাই। শুনেছিলাম দেলোয়ার এর সাথে শার্ট তৈরি নিয়ে জসিম নামে একটি ছেলের সাথে হাতাহাতি হয়েছে। তাকে আমাদের এখানের স্থানীয় ডাক্তার বাড়ীতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েও আসছে। তখন মেয়েটি খেলা করতে ছিল বলে আমরা জানি। আর মামলা বলা হয়েছে ছোট শিশুটিকে ধর্ষন করা হয়েছে সকাল ১০টার দিকে। সকালে শুনলাম মেয়ের ভাইয়ের সাথে হাতাহাতি হয়েছে। আর সন্ধ্যায় শুনলাম ছোট ঐ শিশুটিকে বয়স্ক লোকটি ধর্ষন করেছে। এটা কিভাবে সম্ভব।

স্থানীয় চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম জানান, আমি যখন জসিমের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে যায় তখন সেই মেয়েটিকে স্বাভাবিকভাবে হাটাচলা করতে দেখি। তখন জানতাম না কি হয়েছে। আমাকে একধিক বার ফোন দিয়ে বাড়ীতে নিয়েছে, আমি ঐসময় অনেক ব্যাস্ত ছিলাম।

এদিকে মামলার ২নং স্বাক্ষী সিরাজ বেপারী জানান, আমি কোন মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে পারবো না। আমাকে এ মামলার স্বাক্ষী করা হয়েছে আমি জানিই না। আমার অনুমতি ছাড়া কেন আমাকে স্বাক্ষী করা হল। আমি এ ঘটনার কিছুই জানিনা।

অপর দিকে মামলার ৩ নং স্বাক্ষী রোকন বেপারী ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে বারন করেন এবং বলেন আমি কখনই ছবি তুলিনা। ধর্মের বিধি নিষেধ মেনে চলতে চেষ্টা করি। আর এই মামলায় আমাকে স্বাক্ষী করা হয়েছে তা আমি আগে জানতাম না। পরে মানুষের কাছে শুনেছি। আমি কোন মিথ্যা কথা বলতে পারবো না। যে ঘটনা আমার জানাই নাই তার কি বলবো। কোর্টে গিয়ে স্বাক্ষী দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাওয়া লাগলে যাব আর কিছু জানতে চাইলে সত্য কথাই বলবো।

এ ব্যপারে তদন্তকারী কর্মকর্তার এস আই দুলাল চন্দ্র সরকার জানান, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক প্রতিবেদন দেয়া হবে।

মাদারীপুর অরিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাদ) উত্তম প্রসাদ পাঠক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জেনে নিয়ে সঠিক প্রতিবেদন দেয়ার ব্যবস্থা করবো, যাতে কোন নিরপরাধী ভোগান্তির স্বীকার না হয়।

Leave a Comment