গাইবান্ধায় ড্রাম চিমনিসহ শতাধিক অবৈধ ইটভাটা

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় ম্যানেজ করে চলছে ৫টি ড্রাম চিমনিসহ শাতাধিক অবৈধ ইটভাটা।কৃষি জমি ও বসতি এলাকার এসব অবৈধ ইটভাটার কালো ধোয়া উড়ছে।ইট পোড়াতে ভাটা গুলিতে কয়লার পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ।এসব ইট ভাটাগুলির কালো ধোয়ায় পরিবেশ বৈচিত্র মারাত্মক হুমকির মুখে থাকা অতিষ্ঠ এলাকাবাসী বার-বার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও নাম মাত্র-দু-একটি ইটভাটায় ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে লোক দেখানো জরিবানা করলেও বন্ধ হচ্ছে এসব ইটভাটা।
ইট পোড়ানো (নিয়ন্ত্রন)আইন১৯৮৯ এর সংজ্ঞা ধারা-২ অনুযায়ী কোন ইটের ভাটায় জ্বালানি হিসাবে বাঁশের মরা মোথা ছাড়া কোন উদ্ভিদ কাঠ ব্যবহার করা যাবে না। ধারা-৪ লাইসেন্স ব্যতীত কোন ব্যক্তি ভাটা স্থাপন বা ইট পোড়াতে পারবে না।নির্দিষ্ট ফরমে এবং নির্ধারিত ফিস প্রদান করে উপ-ধারা (১)এ উল্লেখিত লাইসেন্স এর জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট দরখাস্ত পেশ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক কতৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি,যিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নি¤েœ হবেন না,উপজেলা প্রশাসক,পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বা যেখানে বন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে এ ধারার উদ্দেশ্যে পূরনকল্পে একটি তদন্ত কমিটি থাকবে।৩ ক)উপ-ধারা(২)এর অধীন প্রাপ্ত দরখাস্ত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কতৃক উপ-ধারা(৩ক)এর অধীন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রেরিত হবে।৩খ)উপ-ধারা(৩ক) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর জেলা প্রশাসক ক্ষেত্রমত দরখাস্তকারীকে বিধিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে লাইসেন্স প্রদান করবেন।৪)ইট পোড়ানোর জন্য প্রদত্ত লাইসেন্স উহা প্রদানের তারিখ হইতে ৩ বৎসরের জন্য বৈধ থাকবে।
তবে উক্ত মেয়াদের মধ্যে লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তি যদি এ আইনের কোন বিধান ও তদধীন প্রনীত কোন বিধি বা লাইসেন্সে উল্লেখিত কোন শর্ত ভঙ্গ করেন তাহলে জেলা প্রশাসক উক্ত লাইসেন্স বাতিল করতে পারবেন।৫)এ ধারার যা কিছু থাকুক না কেন,উপজেলা সদরের সীমানা হতে তিন কিলোমিটার,সংরক্ষিত, রক্ষিত, হুকুম,দখল,বা অধিগ্রহন কৃত বা সরকারের নিকট ন্যস্ত বনাঞ্চল,সিটি কর্পোরেশন, মিউনিসিপ্যালিটি,আবাসিক এলাকা ও ফলের বাগান হতে তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোন ইটের ভাটা স্থাপন করার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না।
এবং ধারা কার্যকর হবার অব্যবহতি পূর্বে উক্ত সীমানার মধ্যে কোন ইটের ভাটা স্থাপিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স গৃহীতা,সরকার কতৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এতদূদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে,এ উপধারার বিধান মোতাবেক,উহা যথাযথ স্থানে স্থানান্তর করবেন,অন্যথায় সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।পরিদর্শন ধারা-৬ ১)এ আইনের কোন ধারা লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা নি¤œরুপ করার জন্য জেলা প্রশাসক বা জেলা প্রশাসক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা বন কর্মকর্তা বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা,যাদের পদমর্যাদা সহকারী বন সংরক্ষক/সমপর্যায়ের নি¤েœ হবে না,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,কোন প্রকার নোটিশ ব্যতীত,যে কোন ইটের ভাটা পরিদর্শন করতে পারবেন।২)উপ-ধারা(১) এর অধীন পরিদর্শন কালে পরিদর্শনকারী কর্মকর্তার নিকট যদি বিষয় প্রতীয়মান হয় যে, ক)ইটের ভাটায় মওজুদ ইটগুলি পোড়ানোর জন্য কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে,তাহলে তিনি ইটের ভাটার সমুদয় ইট এবং জ্বালানী কাঠ আটক করতে পারবেন,খ)লাইসেন্স ব্যতীত ইটের ভাটা স্থাপন করা হয়েছে বা হচ্ছে তাহলে ভাটায় প্রাপ্ত সমদয় ইট,সরঞ্জাম এবং অন্যান্য মালামাল আটক করতে পারবেন।
শাস্তি : ধারা-৭ যদি কোন ব্যক্তি এআইনের কোন বিধান বা এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত কোন বিধি বা লাইসেন্সের কোন শর্ত লংঘন করেন তবে তিনি অনধিক(১)বৎসরের কারাদন্ডে দন্ডিত বা অনাধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থ দন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।এবং অপরাধ বিচার কালে আদালত যদি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে,ধারা ৬ এর অধীন আটককৃত ইট ও জ্বালানী বাজেয়াপ্ত যোগ্য,তাহলে আদালত উক্ত ইট ও জ্বালানি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিবেন।সরেজমিনে দেখা যায়,এসব আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে,সাদুল্লাপুর উপজেলা বদলাগাড়ী ইদ্রাকপুর গ্রামে মেসার্স এইচ আর বি ব্রিকস্ নামে রুবেল ফরহাদ লাইসেন্স বিহীন ড্রামের চিমনিতে জ্বালানি হিসাবে কাঠ পুড়ে ইট প্রস্তত করছেন।একই এলাকার মেসার্স সততা ব্রিকস্ লি:নামে আনোয়ার হোসেন সরকার ড্রামের চিমনিতে জ্বালানি হিসাবে কাঠ পুড়ে ইট প্রস্তত করছেন।একই ভাবে পার্শ্ববর্তী কবিরের পাড়ায় মেসার্স জি.জি.বি বিকস্ নামে মিজানুর রহমান ও জাহিদুল ইসলাম ড্রামের চিমনিতে জ্বালানি হিসাবে কাঠ পুড়ে ইট প্রস্তত করছেন।
সূত্র মতে, সাদুল্যাপুরে ৯০টি,পলাশবাড়ীসহ জেলায় প্রায় ৩ শতাধিক লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ইটের ভাটায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কৃষি জমি,বসতি এলাকায় সড়কের পার্শ্বে ইটের ভাটায় অবাধে কাঠসহ জ্বালানি দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে।আর এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়া,ট্রাকর,কাকড়া দিয়ে কৃষি জমি,সড়ক,বাঁধ মাটি আনা নেয়ায় সড়ক গুলো ধুলা বালিতে,কার্বন নিঃসরণে উষ্ণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ-জীব বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে।অপরদিকে সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।প্রায় ঘটছে দুঘর্টনা।
সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এর এলাকাবাসী জানান,ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।তার উপর বসতি এলাকায় এসব ইট ভাটা।তারা আর জানান,এসব অবৈধ ভাটা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে চলছে বছরের পর বছর, ফলে বন্ধ হচ্ছে না এসব অবৈধ ইটভাটা।এ বিষয়ে জানতে মুঠো ফোনে সাদল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা খাতুনের যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেন নি।এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার(ভূমি)সঞ্জয় কুমার অধিকাংশ লাইসেন্স বিহীন ইটের ভাটা চলছে স্বীকার করে বলেন,এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা চলছে।
তিনি আরও বলেন,৫টি ইটের ভাটায় ২লাখ ২০ হাজার টাকা জরিবানা করা হয়েছে।তবে ভূমি অফিসের রেজিষ্ট্রারে দেখা যায়,এটিএম শফিকুল ইসলাম এর ৪০হাজার,আনোয়ার হোসেনকে ৩০হাজার,নুর আলমকে ৫০ হাজার,শ্রী তাপস কর্মকারকে ৫০হাজার,আজগর আলীকে ৫০হাজার টাকা জরিবানা করা হয়েছে।তবে ৫টি ড্রামের চিমনির এধ্যে আনোয়ার হোসেনকে মাত্র ৩০হাজার টাকা জরিবানা করা হয়েছে।চিমনী বন্ধে কোন ব্যবস্থা বা নির্দেশ দেয়া হয়নি।এমনকি জরিবানা রেজিষ্টারে কোন ভাটার নাম তোলা হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জানান,লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ড্রামের চিমনীর ইটভাটা গুলো ও অবৈধ ইটভাটা গুলো বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।বড় ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষায় এসব অবৈধ ড্রামের চিমনীসহ লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ এমনটাই দাবী করেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী।

Leave a Comment