উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সাফল্য অর্জন বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রেস ব্রিফিং

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণের যোগ্যতা অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২০ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচীর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন তিনি। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর অর্থনৈতিকভাবে নি¤œ আয়ের দেশ থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক অর্জন হয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে। পুরোপুরি স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে থেকে অপেক্ষ করতে হবে। দেশের এই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে দল-মত নির্বিশেষে সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে কাজ করার আহবান জানান তিনি। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে দেশের উন্নয়নের অর্জন প্রচারণার জন্য সকল গণমাধ্যমকর্মীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহ, জেলা তথ্য অফিসার মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরান ফারুক মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, সাপ্তাহিক সোনামসজিদের সম্পাদক মোহাঃ জোনাব আলীসহ অন্যরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ হোসেন খান, এনএসআই’র উপ-পরিচালক আলহাজ্ব মোঃ শামসুজ্জোহা, এসময় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, বঙ্গবন্ধু’র নেতৃত্বে সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনের স্বপ্নে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলদেশ। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দেশকে নেতৃত্ত দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও প্রশংসা পেয়েছে। তিনি বলেন উন্নয়নশীল দেশে উন্নীতের মর্যাদা অর্জন উদযাপনে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযত্রা’র আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশকে এক সময় তলা বিহিন ঝুড়ির দেশ বলা হতো। বাংলাদেশ সাহায্যের জন্য উন্নত দেশের দিকে তাকিয়ে থাকতো। বিদেশী সহায়তার উপর ভিত্তি করে বাজেট প্রণয়ন করতে হতো। বর্তমানে বাংলাদেশকে বিদেশী সাহায্যের উপর নির্ভর করে বাজেট প্রণয়ন করতে হয় না। বর্তমানে বাংলাদেশ একটি আত্মনির্ভরশীল দেশ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো ৫ কোটি শিক্ষিত তরুণ যুবক। তাদের দক্ষতা বাড়ার জন্য সরকার বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। সবকিছু মিলে বাংলাদেশ একটি সম্ভবনাময় দেশ। তিনি কয়েকটি গবেষণার বিবরণ দিয়ে বলেন, উন্নত ১১ টি দেশের তালিকায় যে দেশ গুলোর নাম ওঠে এসেছে, তার মাধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। এই গৌরব নিয়ে আমরা বড় হতে পারি। আমাদের প্রজন্ম আত্মবিশ্বাস নিয়ে বড় হবে। বাংলাদেশ একটি আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে নাম লিখবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ৮০ শতাংশ দরিদ্র সীমার মধ্য হতে বর্তমানে ২০ শতাংশ অবস্থান করছে। ১০ শতাংশ শিক্ষার হার হতে ৭০ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। বে-সরকারী ক্ষেত্রেও অনেক সাফল্য অর্জন হয়েছে। ১৭ মার্চ স্বল্পোন্নত দেশে হতে উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়নের সনদ অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে ২০ তাং হতে ২৫ পর্যন্ত সেবা সপ্তাহ ঘোষণা করা হয়েছে। সভায় স্বল্পে¬ান্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে যোগ্যতা অর্জন সম্পর্কে ২১ মার্চ বিকেল ৩ টায় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উন্নয়ন প্রদর্শনী, ২২ মার্চ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় সম্পর্কে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন এর মাধ্যমে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় লোকজ সাংস্কৃতিক এর মাধ্যমে উন্নয়ন প্রচার করা হবে। এছাড়াও সন্ধ্যার পরে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শেষের দিন ২৪ তারিখ সাড়ে ৬ টায় আলোচনা সভা, প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। জেলা প্রশাসক সেবা সপ্তাহ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জণের বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহবান জানান।

Leave a Comment